মেঘনার ভাঙ্গনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইলের চার গ্রামের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ মাঠ ও কবর স্থান। বিলীন হচ্ছে গ্রামের শত শত বিঘা আবাদী জমি। ভাঙ্গনের কবলে পড়ে অনেকে মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসেছে। সর্বস্ব হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে শতাধিক অসহায় দরিদ্র পরিবার। কোন ভাবেই থামছে না ভাঙ্গন। হুমকির মধ্যে দিনাতিপাত করছে ১৩শ পরিবার। সরকারি সাহায্যের প্রহর গুনছে ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মেঘনা পাড়ের রাজাপুর, কাকুরিয়া, চরকাকুরিয়া ও সিঙ্গাপুর গ্রামের উত্তর পশ্চিম দিকে দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। নদী কোন সময় গ্রাস করে ফেলে বসতঘর ভিটেমাটি এমন আতঙ্কে আছে গ্রামবাসী। মাটির বস্তা ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে বাড়িঘর রক্ষায় ব্যস্ত গ্রামের নারী পুরুষ। যাদের জমি আছে তারা গ্রামের দক্ষিণ পূর্ব দিকে নতুন করে বাড়ি বাঁধছেন। ভিটেমাটিহীনরা গ্রাম ছেড়ে পার্শ্ববর্তী জেলা কিশোরগঞ্জ, কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, মাধবদি, সিলেট ও চট্টগ্রামে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে যাযাবর জীবন-যাপন করছেন। এ স্থানটি চারটি নদীর মোহনা।
ভৈরব থেকে প্রবাহিত মেঘনা, সিলেট থেকে প্রবাহিত ধলেশ্বর, বাজিতপুর থেকে প্রবাহিত কুলা ও কুলিয়ারচর থেকে প্রবাহিত কালি নদী। ফলে এখানে সব সময় পানির তোড় ও ঢেউয়ে থাকে প্রবলগতি। এ বছর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন বদিউজ্জামান, হেলাল, জামাল, আইবুর, সাত্তার মিয়া, জলিল, এন্নাছ, আকবর, শিরু মিয়া, মনু মিয়াসহ অনেকে। বৃদ্ধ আবদুল মজিদ বলেন, আমি এ পর্যন্ত চারবার বাড়ি বেঁধেছি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, ভাঙ্গন বিশাল। পানির কারণে বর্তমানে ভালভাবে দেখা যাচ্ছে না। চার গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন। মেঘনা নদীর এ স্থানে ভাঙ্গন রোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে কমপক্ষে ২৫/৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
