তাহলে আমরা বলতে পারি আপনারা দুজন এখন আর বন্ধু নন’—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্পারস কোচের উত্তর ছিল, ‘হ্যাঁ, আমারও তাই মনে হয়। আমার মনে হয় এখানে কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। তবে আমাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে। আন্দ্রে ভিলাস বোয়াস
হোসে মরিনহো আর আন্দ্রে ভিলাস বোয়াস। দুজনই পর্তুগীজ, ইউরোপের অন্যতম সেরা কয়েকটি ক্লাবে মরিনহোর অধীনে প্রায় টানা সাত বছর কাজও করেছেন বোয়াস। তবে এককালের গুরু-শিষ্যকে ভাগ্য আজ দাঁড় করিয়ে দিয়েছে মুখোমুখি অবস্থানে। প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মরিনহোর দল চেলসিকে আজ আতিথেয়তা দেবে বোয়াসের টটেনহ্যাম। তবে আতিথেয়তা না বলে সেটাকে যুদ্ধের আমন্ত্রণ বলাটাই বোধহয় যুক্তিসঙ্গত। কারণ দুজনের অতীত সুসম্পর্ক এখন অতীত আর মরিনহো মোটেই আমার বন্ধু নন বলে হোয়াইট হার্ট লেনে নামার আগেই কথার লড়াই উস্কে দিয়েছেন বোয়াস।
মরিনহো যখন পোর্তোর কোচের দায়িত্বে বোলাস মরিনহোর সহকারী হিসাবে তখন মাত্র শুরু করেছেন তার কোচিং ক্যারিয়ার। এরপর মরিনহোর সাথেই একটানা ঘুরেছেন প্রায় সাত বছর। পোর্তোর পর স্বঘোষিত মরিনহোর স্কাউট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন চেলসি এবং ইন্টার মিলানেও। তবে এই দায়িত্ব থেকে বোয়াস পদোন্নতি চাইলে সেটা দিতে অস্বীকার করেন মরিনহো। ফলে সেখানেই দুজনের বিচ্ছেদ।
আর তাই ইন্টার থেকে মরিনহো যখন যোগ দিলেন রিয়াল মাদ্রিদে বোয়াস তখন পোর্তোর প্রধান কোচ। এরপর মরিনহোর পথ অনুসরণ করেই এলেন চেলসিতে। তবে সেখানে তার দিনগুলো সুখের ছিল না মোটেই। মাত্র ২৫৬ দিনের স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ অবস্থান শেষে এই ৩৫ বছর বয়সী যোগ দেন টটেনহ্যামে। আর মরিনহোর দ্বিতীয় দফায় ব্লুজদের দায়িত্ব নেয়ায় নিশ্চিত হয়ে যায়, সাবেক গুরু-শিষ্যের লড়াই এ মৌসুমেই দেখছেন দর্শকরা।
তবে মরিনহোর সাথে আগের সেই সুসম্পর্ক নেই বলেই স্বীকার করলেন বোয়াস। আর তাতে যে তার কোন আক্ষেপ নেই বোয়াস বলেছেন সেটাও, ‘তার সাথে সম্পর্ক শেষ বলে আমার ঘুম নষ্ট হয়নি। তার সাথে মাঠ এবং মাঠের বাইরে আমার দারুণ একটা সম্পর্ক ছিল। তবে এখন সেটা নেই।’
দুজনের সম্পর্কের এই ভাঙ্গনের কারণ সম্পর্কেও বলেছেন তিনি, ‘আমি ছিলাম উচ্চাকাঙ্ক্ষী। আমি সবসময়ই চাইতাম তাকে অতিরিক্ত কিছু দিতে। কারণ আমার বিশ্বাস ছিল তাকে আমি আরও কিছু দিতে পারবো। তবে তার পাশে কোন সহকারীর প্রয়োজনীয়তা সে অনুভব করতো না। আমি আমার তখনকার অবস্থানের উন্নতি চাচ্ছিলাম এবং এটাই দুজনের সম্পর্কে সমস্যা সৃষ্টি করে। মিলানের (ইন্টার) পরেই নিশ্চিত হয়ে যায়, আমাদের ক্যারিয়ার আলাদা করে ফেলার এটাই সেরা সময়।’
‘তাহলে আমরা বলতে পারি আপনারা দুজন এখন আর বন্ধু নন’—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্পারস কোচের উত্তর ছিল, ‘হ্যা, আমারও তাই মনে হয়। আমার মনে হয় এখানে কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। তবে আমাদের সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে।’
আগের সেই সমপ্রীতি না থাকলেও দুজনের প্রতি দুজনের শ্রদ্ধাবোধের কোন অভাব নেই বলে জানিয়েছেন তিনি, ‘আমার মনে হয় দুজনের প্রতি দুজনের শ্রদ্ধার কোন অভাব নেই। আমাদের অবস্থা আগের মতো না হলেও, দুজনের একসাথে থাকার বিষয়গুলো তো আর ভোলা যায় না।’
অন্যদিকে সাংবাদিকদের বার বার প্রশ্নের পরেও এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি না হওয়া মরিনহোর মুখ থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু একটি কথাই জানা গেছে, ‘আমার কিছু বলার নেই।’
এদিকে পর্তুগীজ লড়াইয়ে চাপা পড়ে যাওয়া রাতের অন্য ম্যাচগুলোতে শিরোপাধারী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড খেলবে ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিওনের বিরুদ্ধে। আর তাদের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিপক্ষ অ্যাস্টন ভিলা। অন্যদিকে আর্সেনাল লড়বে সোয়ানসি সিটির বিরুদ্ধে।
