ভূমি সমস্যায় থেমে আছে পার্বত্য পর্যটন উন্নয়ন

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৫
সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিকল্পিত পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেনি। ভূমি জটিলতায় পর্যটন শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয়রা। পর্যটন শিল্পের বিকাশে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও কক্সবাজার এই চার জেলাকে সম্পৃক্ত করে সরকার যে প্যাকেজ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল দীর্ঘ চার বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে ২০০৯ সালে পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বান্দরবানের সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটগুলো পরিদর্শন করেন। এরপর নীলাচল থেকে স্বপ্নচূড়া, চিম্বুক পাহাড় থেকে জীবন নগর পর্যন্ত দুইটি এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে আরো তিনটি ক্যাবল কার নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এটি এখন পর্যন্ত পরিকল্পন স্তরেই রয়ে গেছে। ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আহমেদ রাজু, ইসরাত জামানসহ কয়েকজন পর্যটক জানান, পাহাড়ী জেলা বান্দরবানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মুগ্ধ হওয়ার মতো। তবে অনুন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাস্তার দুই পাশে কোনো গাছপালা না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন পর্যটকরা। নিরাপত্তার অভাবে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বান্দরবানে বেড়াতে আসার সাহস পান না। পর্যটনের অফুরন্ত সম্ভাবনাময় পাহাড় ঘেরা বান্দরবানে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ সাকাহাফং, তাজিংডং বিজয়, ক্যাওক্রাডংসহ অসংখ্য পাহাড়। মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাঙ্খো, চাকমা, চাক এবং লুসাইসহ ১৩টি পাহাড়ী সমপ্রদায়ের বসবাস এখানে। দেশের অন্য কোথাও এতগুলো পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর বসতি নেই। পাহাড়ীদের বৈচিত্র্যময় জীবন চিত্র যে কারো মনকে করে উত্ফুল্ল। তাছাড়া রয়েছে, দুইটি ঝুলন্ত সেতু, মিনি সাফারী পার্ক, প্রাকৃতিক লেক, চিড়িয়াখানা, চা বাগান, অসংখ্য ছোটবড় ঝর্ণা, জলপ্রপাত, আকর্ষণীয় নীলাচল পর্যটন স্পট যেখানে পাহাড়ের সঙ্গে মিতালী গড়েছে আকাশ। সম্ভবত প্রকৃতির এই নির্মল ছোঁয়া পেতে নানা অসুবিধা সত্ত্বেও প্রতিদিনই দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসছেন বান্দরবান জেলায়। আবাসন সংকটের কারণে পর্যটকরা হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউসগুলোতে সিট না পেয়ে দুর্গমাঞ্চলে পাহাড়ীদের মাচাংঘরগুলোকে থাকার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। অনেকে সে ব্যবস্থা করতে না পেরে বা নিরাপত্তার অভাবে বোধ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কে.এম তারিকুল ইসলাম বলেন, পর্যটন শিল্পের জন্য সম্ভাবনায় সবকিছুই রয়েছে এখানে। ক্যাবলকারসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের আগ্রহও দেখিয়েছে। কিন্তু ভূমি সমস্যার কারণে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে পাহাড়ে। এই সমস্যার সমাধান হলে দ্রুত পর্যটন শিল্পের বিস্তার ঘটবে বলে মনে করেন তিনি।