কুমিল্লায় ঝুঁকিপূর্ণ ৮৬ ভবন ভেঙ্গে ফেলার উদ্যোগ নেই

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৭
কুমিল্লা নগরীর ৮৬টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবন ভেঙ্গে ফেলার জন্য সিটি কর্তৃপক্ষ ভবন মালিকদের নোটিস প্রদান করলেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের তদবিরসহ বিভিন্ন কারণে বিষয়টি কাগজে-কলমেই আটকে আছে। বর্তমানে এসব ভবনে লোকজন ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন। যে কোন সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশংকা করছেন অনেকেই। এদিকে নগরীর একটি চারতলা ভবনের ওপর হেলে পড়া পাঁচতলা ভবনটি প্রায় আড়াই বছরেও অপসারণ করা হয়নি। বর্তমানে যেভাবে পাঁচতলা ভবনটি চারতলা ভবনের গায়ে হেলান দিয়ে রয়েছে তাতে যে কোন সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনটি অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। অন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর ব্যাপারেও শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। জানা গেছে, ২০০৯ সালের ৪ জুন পৌরসভা এলাকার ৬৬টি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ১৫ দিনের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়ে ভবন মালিকদের নোটিস দেয়া হয়। পরে রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের তদবিরসহ বিভিন্ন কারণে গত ৪ বছরেও এসব ভবন ভাঙ্গা যায়নি। গত ২৪ এপ্রিল ‘রানা প্লাজা’ ট্র্যাজেডির পর ওই ৬৬টি ভবনসহ মোট ৮৬টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে ভেঙ্গে ফেলার জন্য গত ২৮ এপ্রিল ভবন মালিকদের নোটিস প্রদান করে সিটি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে নগর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন কান্দিরপাড় এলাকার দ্বিতল মসজিদ মার্কেট (পৌর মার্কেট) ভাঙ্গার কাজ শুরু করা হলেও অন্য ভবনগুলো ভাঙ্গার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে মহানগরীর পশ্চিম রেসকোর্স এলাকার জাফর খান সড়কের পাশে প্রায় ১০ বছর আগে চারতলা ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন নিয়ে ‘ভূঁইয়া হাউস’ নামে (হোল্ডিং নং-১৪৫৫) ৫ তলা ভবন নির্মাণ করেন স্থানীয় আবদুল আমিন ভূঁইয়া। ২০১১ সালের মে মাসের দিকে ভবনটি পশ্চিম পাশের ‘র-হাম মঞ্জিল’ নামে (হোল্ডিং নং-১৬৪৬/ক) একটি ৪ তলা ভবনের দিকে হেলে পড়ে। এতে ওই ভবনসহ আশপাশের ভবনের মালিক-ভাড়াটিয়ারা আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ বিষয়ে ওই সময় র-হাম মঞ্জিলের মালিক রফিকুল ইসলাম কুমিল্লা পৌরসভার মেয়রকে অবহিত করলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নক্সা বহির্ভূত ভবনটি ৩ দিনের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলার জন্য মালিককে নির্দেশ দেন। কিন্তু ভবন মালিক গড়িমসি করতে থাকেন। পরে হেলে যাওয়া ইমারত অপসারণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. ইকরামুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয় পৌরসভা। এতে ওই ভবনের মালিক নিজ উদ্যোগে ভবন ভেঙ্গে অপসারণের আবেদন করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, হেলে পড়া ভবনের ৫ম তলার একাংশ ভাঙ্গা হয়েছে এবং অপর অংশে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করছেন। ভবনটি নিচ থেকে প্রায় ৪/৫ ফুট হেলান দিয়ে ওপরের অংশ পাশের র-হাম মঞ্জিলে লেগে আছে। অবিলম্বে ভবনটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ইত্তেফাককে জানান, ‘হেলে পড়া ভবনটি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ভেঙ্গে অবশ্যই অপসারণ করা হবে। সিটি কর্পোরেশনে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছেন। তাই সব কাজ যথাসময়ে করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙ্গে অপসারণ করা হবে।’