বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে তেল-গ্যাস-বিদ্যুত্ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ঢাকা-রামপাল লংমার্চ চতুর্থ দিনে খুলনায় এসে পৌঁছেছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টায় যশোর থেকে লংমার্চটি খুলনার ফুলতলা উপজেলায় প্রবেশ করে। এ সময় জেলার প্রবেশ পথে হাজারো নেতা-কর্মী শ্লোগানে শ্লোগানে লংমার্চকে স্বাগত জানায়।
দুপুর সাড়ে ১২টায় ফুলতলা স্বাধীনতা চত্বরে প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় কমিটির স্থানীয় আহ্বায়ক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা গাজী নওশের আলীর সভাপতিত্বে এখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। এরপর ফুলতলা থেকে লংমার্চ দুপুর আড়াইটায় নগরীর দৌলতপুর বীনাপানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমবেত হয়। পরে এখানে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় কমিটির স্থানীয় আহ্বায়ক সাবেক এমপি শেখ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে এখানে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। জনসভা শেষে লংমার্চের বহর খালিশপুরের শিল্পাঞ্চলে একটি পথসভা করে। বিকালে শহীদ হাদিস পার্কে জনসভা অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও প্রবল বৃষ্টিতে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত তা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
ঢাকা-রামপাল প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ লংমার্চের প্রাণ আটটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এগুলো হচ্ছে, সমগীত, গায়েন, এই বাংলা, ঐকিক, চারণ, বিবর্তন, উদীচী ও সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন। প্রথম চারটি সংগঠন সাংস্কৃতিক মঞ্চের ব্যানারে একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করছে। লংমার্চের অগ্রবর্তী বাহিনী হিসেবে সংগঠনগুলোর ছেলে-মেয়েরা কয়েকটি খোলা ট্রাকে করে পথসভা ও জনসভাস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন। গণসংগীত, পথনাটক, আবৃত্তি, স্লোগান, ঢোল-বাঁশির বাজনায় পুরো লংমার্চকে তারা মাতিয়ে রেখেছেন। প্রখর রোদ ও ঝড়-বৃষ্টি, কিছুই দমাতে পারছে না তাদের। কাজের ফাঁকে তারা জাতীয় কমিটির প্রচারপত্রও বিলি করছেন। বৃষ্টির মধ্যে হাদিস পার্কে জনতা দাবি তুলেছে ‘জান দেব কিন্তু সুন্দরবন ধ্বংস হতে দেব না। রামপালে কোন অবস্থাই তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করতে দেব না’। খুলনায় রাতে অবস্থান শেষে শনিবার লংমার্চে পঞ্চম ও শেষ দিনে বাগেরহাটের রামপালের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
আমাদের যশোর অফিস জানায়, এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে যশোরে সমাবেশের পর শুক্রবার সকালে খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির লংমার্চ। বৃহস্পতিবার রাতে যশোর টাউন হল ময়দানে লংমার্চের সমাবেশে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ভারত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মানুষের প্রধান প্রাকৃতিক রক্ষাবর্ম সুন্দরবনকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ রামপাল প্রকল্পটি অস্বচ্ছ ও অসম। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভারত আর এদেশের ভারতীয় কমিশনভোগীরা লাভবান হবে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ। তাই জীবন দিয়ে হলেও এই প্রকল্প রুখে দেয়া হবে।
