শুক্রবার বিকালে তার হোটেল স্যুটে প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশি বিজনেস এসোসিয়েশন এনওয়াই (জেবিবিএ)’ এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত্কালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আরো একটি বোয়িং বহরে যোগ হলেই ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চালু হবে। সরকার এই রুটে বিমানের ফ্লাইট চালুর ব্যাপারে সবসময় আন্তরিক। এ কারণে নিউইয়র্কে বিমানের অফিস চালু রাখা হয়েছে। সাক্ষাত্কালে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর কাছে বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরে তা বাস্তবায়নের দাবি জানান। এসময় তারা জানান, ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের বোস্টনে প্রতিবছর ‘সি-ফুড ফেয়ার’ এবং ফ্লোরিডার লাস-ভেগাসে ‘গার্মেন্ট ফেয়ার’ অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্কেও এ ধরনের ফেয়ার আয়োজন করলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বিস্তৃত হতে সহায়ক হবে। এছাড়া বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে নিউইয়র্কে ‘ডিসকভার বাংলাদেশ’ নামে একটি ডেস্ক স্থাপনের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে দূতাবাস ও কন্সুলেটকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জেবিবিএ সভাপতি এম. মহসীন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল মো. দিদারুল ইসলাম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, জেবিবিএ’র উপদেষ্টা মহসীন ননী, হারুন ভুঁইয়া প্রমুখ।
হোটেলের সামনে বিক্ষোভ
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানরত নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের সামনে ‘বাংলাদেশ প্রগ্রেসিভ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে কয়েকজন প্রবাসী বিক্ষোভ করেন। তাদের মধ্যে তারেক পরিষদ আন্তর্জাতিক কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাদল, শহীদুল্লাহ কায়সার, মাহবুবুর রহমান, সাফায়েত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ওই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আজম, সাঈদীসহ কারাবন্দি জামায়াত নেতার মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেন।
তাদের এই বিক্ষোভের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত সচিবকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, হোটেলের নিচে রাস্তার পাশে বিএনপির লোকজন বিক্ষোভ করতে এলেই যেন তাদের হোটেল কক্ষে ডেকে আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাদের চা পান করাবেন এবং তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করবেন। কিন্তু বিএনপির কেউ আসেননি। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত একেএ মোমেন এ তথ্য জানান।
প্রসঙ্গত, দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানাডা সফরে গেলে টরন্টোয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের ডেকে চা দিয়ে আপ্যায়ন করে তাদের দাবির কথা শুনেছিলেন।
