পার্লামেন্ট নির্বাচনে সকল প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যানের অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত গতকাল শুক্রবার এই রায় দেয়। আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারতের প্রধান বিচারপতি পি সত্যশিবমের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে ভোটিং মেশিন ও ব্যালট পেপারে সব দলের প্রতীকের পাশাপাশি ‘উপরের কাউকে না’ অপশন রেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছে। সত্যশিবম রায় পাঠ করে বলেন, ‘বিকল্প পছন্দের সুযোগই হলো গণতন্ত্র আর ভোটারদের এই ‘না’ ভোট দেয়ার অধিকার দিয়ে ক্ষমতায়ন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘না’ ভোট রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সম্পর্কে ভোটাররা কি ধারণা পোষণ করে সে সম্পর্কে একটি পরিষ্কার সংকেত পাঠাবে। অধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জোর দাবি সত্ত্বেও ভারতের ভোটারদের এ পর্যন্ত ‘না’ ভোট দেয়ার সুযোগ ছিল না। সংগঠনগুলো দাবি করছে, নির্বাচনে ৫০ শতাংশের বেশি ‘না’ ভোট পড়লে ওই নির্বাচনী এলাকায় পুনঃনির্বাচন করতে হবে। সত্যশিবম বলেন, ‘প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যানের অধিকার নির্বাচনী রাজনীতিতে শুদ্ধতা আনবে।’
এদিকে, এই রায়ের পর সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো। কংগ্রেসের জেনারেল সেক্রেটারি অজয় মাকেন বলেছেন, রায়ের কপি হাতে পাবার পর সেটা ভালোভাবে পর্যালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ভাইস প্রেসিডেন্ট মুকতার আব্বাস নকভি বলেন, পুরো রায় না পড়ে মন্তব্য করার ঠিক হবে না। দেখতে হবে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়ার ক্ষেত্রে সবগুলো বিষয় বিবেচনায় নিয়েছে কি না। সিপিআই (এম) নেতা সিতারাম ইয়েচুরি বলেন, তিনি এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। লোকসভার সাবেক স্পিকার সোমনাথ চ্যাটার্জিও বলেন, তিনি এই রায়ের সাথে একমত নন।
