নারায়ণগঞ্জে টানা তিনদিন শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। এসব অসন্তোষে প্রচুর গার্মেন্টস ভাংচুর, পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে মালিক ও শ্রমিক নেতারা পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব অসন্তোষের পেছনে ছিল কিছু শ্রমিক নেতার উস্কানি। আর হামলার সঙ্গে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীরাও ছিল।
গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি সেলিম ওসমান বলেন, সামনে ঈদ ও পূজা আসছে। সবাই চাইবে এ সময় বাড়তি কিছু টাকা রোজগার করতে। কোন শ্রমিকই চাইবে না কোন প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর করতে এবং তারা সেটা কখনই করে না। এলাকাভিত্তিক পেশী শক্তির কারণে এমন ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। দেখা যায় বিশেষ করে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। উস্কানিদাতারা তাদের স্বার্থ আদায়ে শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে আনছে। আর এসব এলাকার বাড়িওয়ালারাই হচ্ছে সেই সকল পেশী শক্তি। শ্রমিকদের মজুরি বাড়লে তারা তাদের বাড়ি ভাড়া বাড়াতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শ্রমিকদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। সরকার কর্তৃক মজুরি বোর্ডের অনুমোদন করার আগামী ডিসেম্বর মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত সময় রয়েছে। কিন্তু আমরা বিকেএমইএ এর পক্ষ থেকে সেটা নভেম্বর মাসের মধ্যে অনুমোদন করতে অনুরোধ করেছি।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল জানান, গার্মেন্টসে হামলা ভাংচুরের ঘটনার জন্য মালিকরাই দায়ী। শ্রমিকদের অসন্তোষের সুযোগ তৃতীয় কোন পক্ষ নিতেই পারে।
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম জানান, গার্মেন্টস এ ভাংচুরের ঘটনাগুলো সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। গার্মেন্টস মালিকদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরাই এসব কাজ করে থাকে। ভাংচুরের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। কোন শ্রমিক ভাংচুর চালায় না।
গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এম এ শাহীন জানান, শ্রমিকরা কখনও গার্মেন্টসে ভাংচুর চালায় না।
ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশ বলেন, এই শ্রমিক অসন্তোষ হুট করে ঘটে নাই। এটা দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। বিজেএমইএ এর ৬০০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব সেই ক্ষোভকে উস্কে দিয়েছে।
পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ যেমন চাইলে অনেক কিছু করতে পারে না তেমনি ইচ্ছে করলে অনেক কিছু পারে। ৫০ জন পুলিশ যে কাজটি করতে পারে না সেই কাজটি একজন শ্রমিক নেতা করতে পারে। শ্রমিকরা নেতাদের কথা শুনছে না একথাটি আমাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।
শিল্প পুলিশ নারায়ণগঞ্জ-৪ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আহমেদ জানান, রমজানের ঈদের পূর্বে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আমাদের আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যেকোন সমস্যা আমরা প্রথমে ফ্যাক্টরীর ভেতরেই সমাধান করবো। তবে বুধবার থেকে কি এমন হলো তা আমাদের বোধগম্য নয়।
