কার্বন ন্যানোটিউবে তৈরি হলো প্রথম পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৮:০২
দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা চলে আসছিল কার্বন ন্যানোটিউবের মাধ্যমে কম্পিউটার তৈরির। প্রযুক্তি বিশ্বে বর্তমানে সিলিকন ডিভাইসের যে রাজত্ব, ভবিষ্যতে কার্বন ন্যানোটিউবই তাকে প্রতিস্থাপন করবে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের। তবে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা এই প্রক্রিয়াকে এতদিনেও সফল হতে দেয়নি। তবে সব সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল প্রকৌশলী এবারে কার্বন ন্যানোটিউবে তৈরি বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটারটি তৈরি করেছেন। এর কোড নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেরডিক’। এই ‘সেরডিক’ এখন পর্যন্ত কার্বনে তৈরি সবচেয়ে জটিল ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম। এই পর্যন্ত জেনে অনেকেরই মনে হতে পারে এটি অত্যন্ত দ্রুতগতির একটি কম্পিউটার সিস্টেম। না, সেই ধারণাটি একদমই ভুল। প্রোটোটাইপ হিসেবে তৈরি ‘সেরডিক’-এ রয়েছে মাত্র ১-বিটের প্রসেসর। ১৭৮টি ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি এই সিস্টেমের প্রসেসিং গতি মাত্র ১ কিলোহার্জ। ২ বিলিয়ন কার্বন অ্যাটমে তৈরি এই ডিভাইসের প্রতিটি ট্রানজিস্টরে রয়েছে ১০ থেকে ২০০ ন্যানোটিউব। সিস্টেমটি মাত্র ৩২ পর্যন্ত গুণতে সক্ষম। সবমিলিয়ে একে গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের কোনো কম্পিউটিং সিস্টেমের সমতুল্য বললে ভুল হবে না। তবে এর গতি বা কার্যক্ষমতা দিয়ে একে বিচার করার কিছু নেই। এত সীমিত ক্ষমতার প্রোটোটাইপ সিস্টেমটি এক কথায় একটি নতুন যুগের সূচনামাত্র। আপাতত এটি সংখ্যা গুণতে এবং বর্ণমালা বাছাই করতে সক্ষম হলেও একে দিয়ে কম্পিউটিংয়ের সব ধরনের সমস্যার সমাধান করানো সম্ভব এবং এর সম্ভাবনা প্রায় অসীম। এমনটিই জানিয়েছেন ‘সেরডিক’-এর অন্যতম প্রধান নির্মাতা ম্যাক্স শুলেকার। এর সম্ভাবনার কথাটি জানিয়েছেন এই গবেষণার প্রধান লেখক অধ্যাপক শুভাশিস মিত্র। তিনি বলেন, ‘ইলেকট্রনিক্সে কার্বন ন্যানোটিউবের নতুন যুগের সূচনার কথা আমরা অনেকদিন থেকেই অনেকের কাছ থেকে শুনে আসছি। তবে এর কোনো চাক্ষুষ প্রমাণ এখনও আমরা হাজির করতে পারিনি। ‘সেরডিক’ এর প্রথম প্রমাণ।’ আসলে মাত্র এক অ্যাটম পুরুত্বের কার্বন ন্যানোটিউবকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে তৈরি কম্পিউটিং ডিভাইসগুলো এখনকার সর্বাধুনিক অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকৃতির সিলিকন ডিভাইসের চাইতেও কয়েকগুণ ছোট আকারের ডিভাইস তৈরি করা সম্ভব, কর্মক্ষমতার দিক থেকে যেগুলো এগিয়ে থাকবে অনেকগুণে। ‘সেরডিক’ তাই বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন এক যুগের সূচনা করেছে।