চলছে দোলেশ্বরের স্বপ্নযাত্রা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৫০
অনেকটা সেই ২০০৪ সালে গ্রিসের ইউরোপ জয়ের মতো ঘটনা ঘটছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে! সেবার ইউরোতে ‘কোথাকার কোন্’ গ্রিস এসে একের পর এক হারাতে শুরু করল পর্তুগাল, ফ্রান্স, রাশিয়া, চেক রিপাবলিককে। প্রতিটা রাউন্ডের আগেই পত্রিকায় লেখা হতো—আজ থামবে গ্রিসের স্বপ্নযাত্রা? শেষ পর্যন্ত ইউরো ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে তবে থেমেছিল গ্রিস! না, প্রাইম দোলেশ্বর এখন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়নি। চ্যাম্পিয়ন হওয়া এখনও অনেক অনেক দূরের ব্যাপার। কিন্তু শুরুটা সেই একইরকম স্বপ্নের মতো হয়েছে। লিগের প্রথম ম্যাচে মোহামেডানের সঙ্গে ‘দুর্বল’ দোলেশ্বর লড়াই করে হারায় অনেকে তাদের পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন। তারপরই খেলাটা শুরু করল দোলেশ্বর। গত তিন ম্যাচে পর পর তারা হারিয়েছে আবাহনী, শেখ জামাল ও প্রাইম ব্যাংকের মতো তিন ‘জায়ান্ট’ দলকে। আর গতকাল টান টান উত্তেজনার বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে আরেক বড় দল গাজী ট্যাংককে ৪ রানে হারিয়ে স্বপ্নযাত্রাকে অবিশ্বাস্য এক পর্যায়ে নিয়ে গেল প্রাইম দোলেশ্বর! মিরপুরে দোলেশ্বর যখন তাদের এই স্বপ্নিল জয়যাত্রা ধরে রেখেছে, তখনই হঠাত্ যেন পথ হারিয়ে ফেলেছে প্রথম তিন রাউন্ড পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা মোহামেডান। গতকাল প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ২ উইকেটে হেরেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এই ঘটন-অঘটনের মধ্যেও নিজেদের ধরে রেখেছে গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং। গতকাল ফতুল্লায় সিসিএসকে ৩ উইকেটে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে উঠে এসেছে দলটি। রোমাঞ্চকর ম্যাচে আবার রূপকথা মিরপুরে গতকাল খেলাটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠল দ্বিতীয় ইনিংসে বৃষ্টি নামার পর। দোলেশ্বরের ছুঁড়ে দেয়া ২১২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করছিল গাজী ট্যাংক। ইনিংসের ৩১ ওভার হয়ে যাওয়ার পর বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হয়ে গেল; গাজী ট্যাংক তখন ৩ উইকেটে ১১৫ রানে ব্যাট করছে। বৃষ্টি থামার পর গাজীর সামনে ৩৬ ওভারে ১৪৬ রানের লক্ষ্য দাঁড়ালো। মানে, ৫ ওভারে তাদের ৩১ রান করতে হবে; হাতে ৭ উইকেট। বেশ সহজসাধ্য লক্ষ্য। এই পাঁচ ওভারের প্রথম ৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৬ রান তুলে ফেললো গাজী ট্যাংক। মানে পরের ২ ওভারে চাই ১৫ রান। এ সময়ই ভেল্কি দেখালেন সোহাগ গাজী। ৩৫তম ওভারটা করতে এসে প্রথম ও শেষ বলে ২ উইকেট তুলে নিলেন, রান দিলেন ৩টি। ফলে গাজী ট্যাংককে জিততে হলে ফরহাদ রেজার করা শেষ ওভার থেকে ১২ রান নিতে হত। সেই ওভারেও দুই উইকেট নেয়া ফরহাদ রেজা ফরহাদ প্রথম পাঁচ বলে রান দিলেন ৭। মানে শেষ বলে জিততে হলে ৫ রান দরকার গাজী ট্যাংকের। আরাফাত সানি দৌড়ে ১ রান নিলেন এবং দোলেশ্বর ৪ রানের এক রোমাঞ্চকর জয় পেল। এর আগে মেহেদী মারুফ ও রোশানে সিলভার দুই ফিফটিতে ৯ উইকেটে ২১১ রান করে প্রাইম দোলেশ্বর। রুবেল হোসেন ৫৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে নিজের দারুণ ফর্ম ধরে রাখেন। জবাব দিতে নেমে স্কট স্টাইরিসের ৪০ রানের পরও নাটকীয়তার সঙ্গে পেরে উঠল না গাজী ট্যাংক। ফতুল্লায় বোলারদের দিন মোহামেডান অন্তত খেলোয়াড়দের উপস্থিতির দিক থেকে আগের ম্যাচের ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছিল। মাশরাফি বিন মুর্তজা ও তিলকরত্নে দিলশান দলে ফিরেছেন গতকাল। সঙ্গে আগের ম্যাচ থেকেই অজন্তা মেন্ডিস যোগ হয়েছেন। তারপরও তাদের পথ হারানোর পালাটা সাঙ্গ হল না। টানা দ্বিতীয় হারের মুখ দেখল তারা গতকাল; এবার লো স্কোরিং ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে হারল তারা। জিয়াউর রহমান, এনাম জুনিয়র, তাপস বৈশ্যদের বোলিংয়ের মুখে মাত্র ১৭৩ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল মোহামেডান ইনিংসের শেষ বলে এসে। দিলশান সর্বোচ্চ ২৮ রান করেছিলেন। এই ইনিংসের পরই প্রাইম ব্যাংকের জয় দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু সেই জয় পাওয়ার আগে অনেক নাটকের ভেতর দিয়ে যেতে হল তাদের। সাকলায়েন সজীব ও অজন্তা মেন্ডিজের জোড়া স্পিন আক্রমণে ৭৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে প্রাইম ব্যাংক এক সময় এই সহজ লক্ষ্যেও পৌঁছাতে পারবে না বলেই মনে হচ্ছিল। এই সময়ই তাইয়াবুর পারভেজ ও রেজাউল করিম ষষ্ঠ উইকেটে ৭১ রান যোগ করে দলকে ১৪৭ রানে নিয়ে যান। তখনই আবার ছন্দপতন। ৯ রানের মধ্যে এই দুই ব্যাটসম্যানই ফিরে আসেন। আবার জয়ের আশা দেখতে পাচ্ছিল মোহামেডান। কিন্তু ফরিদউদ্দিন মাসুদ ১২ রান করে দলকে জয়ের প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে দেন। শেষ পর্যন্ত ২ উইকেটের জয় পায় প্রাইম ব্যাংক। লড়াই করেও হার সিসিএসের কাল সিসিএসের কাছে হেরে বসছিল ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিংও। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক নাসির হোসেন ও লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে ভিক্টোরিয়া। তবে জয়ের আগে সিসিএসের কাছে পরীক্ষাটা ভালোই দিতে হয়েছে। দলীয় ৬ রানে দুই ওপেনারকে হারানো সিসিএস মিডল ও লোয়ার অর্ডারে দারুণ ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ২১৭ রান তুলেছিল। ৫২ রান করে এই বড় স্কোরের পথে নেতৃত্ব দিয়েছেন সালমান। আসিফ আহমেদ রাতুল ২২ বলে ২২ এবং পারভিজ মারুফ ৩৯ বলে ৪২ করে স্কোরকে লড়াকু করে তোলেন। জবাব দিতে নেমে ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভিক্টোরিয়া। এরপর ৭৮ বলে ৭টি চার ও ১টি ছয়ে সাজানো ৭৭ রান করে নাসির প্রতিআক্রমণ শুরু করেন। সঙ্গে ৭ নম্বরে নামা জুবায়ের ৪০ রানের ইনিংস খেলে ৮ বল বাকি থাকতে জয় এনে দেন ভিক্টোরিয়াকে। রাতুল ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখালেও দলের হারের কষ্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে। স ং ক্ষি প্ত স্কো র গাজী ট্যাংক—প্রাইম দোলেশ্বর প্রাইম দোলেশ্বর : ৫০ ওভারে ২১১/৯ (মেহেদী মারুফ ৬০, মোমিনুল হক ৩৪, রোশানে সিলভা ৬৫; রুবেল হোসেন ৪/৫৩, আরাফাত সানি ২/২৯, মাহমুদুল্লাহ ২/৪৬) গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স : ৩৬ ওভারে ১৪২/৯ (উসমান তারিক ২৫, স্কট স্টাইরিস ৪০, মাহমুদুল্লাহ ৩১। সোহাগ গাজী ২/১৬, হাসান্থা ফার্নান্দো ২/২৬, ফরহাদ রেজা ৩/১৮) ম্যান অব দ্যা ম্যাচ : ফরহাদ রেজা ফল: প্রাইম দোলেশ্বর ৩ রানে জয়ী ভিক্টোরিয়া—ক্রিকেট কোচিং ক্রিকেট কোচিং: ৫০ ওভারে ২১৭/৮ (সালমান ৫২, পারভেজ মাহরুফ ৪২, রুমেশ বুদ্ধিকা ৩৬, রূপাসিংহে ২৭, আসিফ আহমেদ ২২; মনির হোসেন ৩/৩৪, মো: শরিফ ২/৩৬) ভিক্টোরিয়া: ৪৮.৪ ওভারে ২১৯/৭ (নাসির হোসেন ৭৭, জুবায়ের আহমেদ ৪০, শালিকা করুনানায়েক ৩১; আসিফ আহমেদ ৩/৩১, কামরুল ২/৪৯) ম্যান অব দ্যা ম্যাচ : নাসির হোসেন ফল: ভিক্টোরিয়া ৩ উইকেটে জয়ী প্রাইম ব্যাংক—মোহামেডান মোহামেডান এসসি : ৫০ ওভারে ১৭৩/১০ (জুপিটার ঘোষ ২৪, তিলকারত্নে দিলশান ২৮, মুক্তার আলী ৩০; তাপস বৈশ্য ২/৩৯, জিয়াউর রহমান ৩/২৪, এনামুল হক জুনিয়র ২/৩২) প্রাইম ব্যাংক সিসি : ৪৭.৪ ওভারে ১৭৪/৮ (ব্রেনডন টেইলার ২০, তৈয়বুর পারভেজ ৩৮, রেজাউল করিম ৪১; সাকলাইন সজিব ৩/২৪, অজন্তা মেন্ডিস ২/৩৩, মুক্তার আলী ২/২১) ম্যান অব দ্যা ম্যাচ : রেজাউল করিম ফল: প্রাইম ব্যাংক ২ উইকেটে জয়ী