অনভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিত্সা নিয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন দিনমজুর আবুল হোসেন (৫০)। অসহ্য ব্যথায় বিছানায় শুয়ে সারাক্ষণ কাতরাচ্ছেন তিনি। কষ্ট সহ্য করতে না পেরে মাঝে মাঝে আত্মহত্যার ইচ্ছাও জাগছে তার মনে। সহায় সম্বল বলতে তার আছে শুধু ভিটেমাটিটুকু । পঙ্গুত্বের কারণে কোন কাজ করতে না পারায় রোজগার করতে পারছেন না তিনি । পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। খাবার যোগানোর টাকাই নেই, চিকিত্সা করবেন কিভাবে? ছোট দুই ছেলে আছে তারাও বেকার। পঙ্গুত্বের কারণে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাইরেও যেতে পারেন না তিনি। নির্ভর করতে হয় অন্যের উপর । প্রায় ৫ মাস ধরে বিছানায় সারাক্ষণ শুয়ে থেকে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এখন তিনি কেবল নিজের মৃত্যুকামনা করছেন আর চোখের জল ফেলছেন।
সিংগাইর উপজেলার চর ভাকুম গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেনের স্ত্রী রাসেদা খাতুন জানান, মাস ছয়েক আগে তার স্বামীর পায়ের গোড়ালির নিচে একটি ছোট টিউমার হয়। টিউমার অপারেশনের জন্য স্বামীকে নিয়ে তিনি হাবিব সুপার মার্কেটে দি ঢাকা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে যান। ক্লিনিকের চিকিত্সক শহীদ মোহাম্মদ অর্থপেডিক্সের ডাক্তার নন। আবুল হোসেন ও তার স্ত্রীর নিষেধ সত্ত্বেও তিনি আবুলের গোড়ালির রগের ভেতর থাকা টিউমারটি কেটে ফেলেন। রোগী প্রচন্ড ব্যথায় চিত্কার করতে থাকলে ঐ ডাক্তার ৫টি ইনজেকশন পুশ করেন অপারেশনের স্থানটি অবশ করার জন্য। অবশ না হলে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়ানো হয় রোগীকে। একদিন পর রোগীকে বাড়িতে আনা হয়। ৩দিন পর আবার ব্যথা শুরু হলে নেয়া হয় ঐ ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার ১ মাস ১২ দিনের ওষুধ দেন এবং রগ কেটে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। সুষ্ঠুু চিকিত্সা না পেয়ে রোগীকে নেয়া হয় সাভারের রোজ ক্লিনিকে। সেখানে পরীক্ষাশেষে দেখা গেল যে রোগীর রগ সত্যিই কাটা হয়েছে এবং ভুল চিকিত্সা হয়েছে। সেখানকার ডাক্তার বললেন, এ রোগীর চিকিত্সা করা তাদের সাধ্যের বাইরে। দেড় মাস পর আবার রোগীকে নেয়া হয় ডাক্তার শহীদের কাছে। শহীদ পরীক্ষার কাগজপত্র রোগীর কাছ থেকে রেখে দেন এবং তাকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। সেখানকার অর্থপেডিক্সের ডাক্তার তার অপারেশন করলেও তাকে আর সুস্থ করা যায়নি। ঐ ডাক্তার বলেন, অর্থপেডিক্সের ডাক্তার দ্বারা চিকিত্সা করালে রোগীর অবস্থা এমন হতো না।রাসেদা বলেন, টাকার অভাবে আমার সংসার চলছে না । স্বামীর চিকিত্সা করাতে অনেক টাকা ধার-দেনা করতে হয়েছে। শহীদ ডাক্তারের জন্য আমার স্বামী ৪ মাস যাবত্ পঙ্গু হয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে । এ বিচার আমি কার কাছে চাইবো।
