গার্মেন্টস শিল্পের সংকট নিরসনে মালিক শ্রমিক ঐকমত্য

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২০
গার্মেন্ট শিল্পের সবধরনের সংকট নিরসনে এ শিল্পের মালিক ও শ্রমিক নেতারা ঐকমত্য হয়েছেন। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপও নিয়েছেন তারা। গতকাল গার্মেন্ট শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র কার্যালয়ের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন বিজিএমইএ’র নেতারা। আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিং-এ বিজিএমইএ’র নেতারা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন। বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, এ শিল্প রক্ষায় মালিক ও শ্রমিকরা যৌথভাবে পাঁচটি বিষয়ে একমত হয়েছেন। সেগুলো হলো, গার্মেন্ট খাতের রক্ষায় মালিক-শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, শিল্পের ক্ষতি সাধনকারী বহিরাগতদের প্রতিহত করতে সকলে এগিয়ে আসা, গুজব ছড়িয়ে যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায় তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা, যত শিগগির সম্ভব মজুরী কাঠামো ঘোষণা করা এবং ঈদের আগে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান। মজুরী বোর্ডের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি যৌক্তিক মজুরী কাঠামো ঘোষণা করুন। আর যখনই মজুরী কাঠামো ঘোষণা করা হবে তখন থেকেই তা কার্যকর করা হবে। গতকালের সভায় অন্যদের মধ্যে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) রিয়াজ বিন মাহমুদ, শ্রমিক নেতাদের পক্ষে জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার, সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, মজুরী বোর্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম রনি ও গার্মেন্ট শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি লিমা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে মজুরী কাঠামো ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন যাবত্ গার্মেন্ট শিল্পে অস্থিতিশীলতা চলছে। আর এ নিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলন ও সহিংসতা বিশ্বের নেতৃস্থানীয় সকল গণমাধ্যমেও উঠে আসছে। যেখানে ঘুরেফিরে উঠে এসেছে এদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের সবচেয়ে কম মজুরি পাওয়ার বিষয়টি। জানা গেছে, মজুরী বোর্ডে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার ১১৪ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মালিকদের প্রস্তাব ছিল বর্তমান ৩ হাজার টাকা থেকে ৬০০ টাকা বাড়িয়ে তা ৩ হাজার ৬শ’ টাকা করা। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে গার্মেন্টস খাতে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শত শত কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে।