পলিটেকনিকগুলোতে অচলাবস্থা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৭
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কার্যত অচল হবার পথে দেশের সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো। চার বছর মেয়াদী কোর্স করার পরও উত্তীর্ণদের ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে মূল্যায়ন না করার কারণেই মূলত মাঠে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের এই দাবির সাথে একাত্ম হয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং কলেজের শিক্ষকরাও। সবার বক্তব্য, ইঞ্জিনিয়ারয়ের সংজ্ঞায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের রাখা হয়নি, যা ভুল সিদ্ধান্ত। এছাড়া নানা ক্ষেত্রে পলিটেকনিক উত্তীর্ণদের চাকরি পরবর্তী সময়ে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। দেশে ৪৯টি সরকারি ও ৩৫৭টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রয়েছে। কয়েকমাস ধরে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে নেমে এসেছে রাস্তায়। ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন, বিক্ষোভ ও মানববন্ধন, কলেজের অধ্যক্ষের কার্যলয় ঘেরাওসহ প্রতিদিনই কোন না কোন কর্মসূচি থাকছেই। নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষা না হওয়ায় সিলেবাস শেষ করা যাচ্ছে না। গত ২৫ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি আদায়ে মানববন্ধন, সচিবালয় ঘেরাওসহ পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি দেয়া হয়। এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র, শিক্ষক, পেশাজীবী পরিষদের নেতারা। এই কর্মসূচির অংশ হিসাবে গতকাল শনিবার সারা দেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। দাবি আদায় কোন শিক্ষার্থী পরীক্ষা হলে যাবে না বলে জানিয়েছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবী ছাত্র-শিক্ষক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ন মো: ফজলুল হক মল্লিক। এছাড়া পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পলিটেকনিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইদরীস আলী ও নির্মল চন্দ্র সেন শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা পলিটেকনিক শিক্ষার পরিবেশ শান্ত করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, গণপূর্ত, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। যে দাবি শিক্ষার্থীদের: শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি ইঞ্জিনিয়ারদের সংজ্ঞায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা সরকারের কাছে দুই দফা দাবি পেশ করেছে। প্রথমটি হচ্ছে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বেতন বৈষম্য ও পেশাগত সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সরকারের গঠিত ২টি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়ন। দ্বিতীয় দফা দাবি হলো দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসে টাইমবার পদোন্নতি প্রথা প্রবর্তনসহ ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসকে ডেস্ক ও ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভাগ করে একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারদের ডেস্ক ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ফিল্ডের দায়িত্ব প্রদান এবং দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব প্রশাসনিক পদে কারিগরি পেশাজীবীদের নিয়োগ বন্ধ করে জেনারেলিস্টদের নিয়োগ প্রদান। দাবি বাস্তবায়ন করবে কোন সংস্থা: ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবী ছাত্র-শিক্ষক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ফজলুল হক মল্লিক বলেন, জনপ্রশাসন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, শিক্ষা, অর্থমন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই দাবি পূরণ করবে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে সেখানে ইঞ্জিনিয়ারদের সংজ্ঞায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের বাদ দেয়া হয়েছে। এটা পুরোটাই অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে আমরাও এতে অপমান বোধ করছি।