দাবি না মানলে সুন্দরবন রক্ষায় ১২ অক্টোবর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। গতকাল লং মার্চের সমাপ্তি অনুষ্ঠানে একথা ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, যেকোনো মূল্যে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় কোম্পানি এনটিপিসি-র সাথে বাংলাদেশ সরকারের অসম চুক্তি বাতিল করতে হবে। রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুত্ প্রকল্প বন্ধের ব্যবস্থা করতে না পারলে শুধু সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্যই ধ্বংস হবে না এ বিদ্যুত্ প্রকল্পের গোটা এলাকার গাছপালা বিলুপ্তসহ পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়বে। সুন্দরবন রক্ষাসহ ৭ দফা দাবি নিয়ে মংলার দিগরাজে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে সুন্দরবন ঘোষণার মধ্য দিয়ে ৫ দিনব্যাপী তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির লংমার্চ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মোঃ শহিদুল্লাহর সভাপতিত্বে ্ব অনুষ্ঠিত এ জনসভায় জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ ‘সুন্দরবন ঘোষণা’ পাঠ করেন। ঘোষণায় তিনি বলেন, অবিলম্বে সুন্দরবন ধ্বংস করার চক্রান্ত সরকারকে বাদ দিতে হবে এবং সুন্দরবন রক্ষায় নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। প্রকৌশলী শেখ শহীদুল্লাহ বলেন, রামপালে তাপ বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের নামে সুন্দরবন ধ্বংস করে ভারতীয় এনটিপিসি লভ্যাংশের সিংহ ভাগ নিয়ে যাবে। তাদের এ স্বার্থ কোনো ক্রমেই হাসিল করতে দেয়া হবে না। এপ্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরিবেশসহ সব মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হবে ।
শনিবার দুপুরে বাগেরহাটের সমাবেশের পর বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে লংমার্চ মংলার দ্বিগরাজে এসে পৌঁছায়।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ, রুহিন হোসেন প্রিন্স, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো’র সদস্য কমরেড বিমল বিশ্বাস, বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, গণসংহতির সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকীসহ সাহিত্যিক-সাংবাদিক-শিল্পী-পরিবেশবিদ-অর্থনীতিবিদ-প্রকৌশলী ও মানবাধিকার কর্মীরা।
রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন নিয়ে সরকারের ঘোষণার বিষয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ভিত্তিপ্রস্তর জনগণ উপড়ে ফেলবে। সরকারের দেয়া প্রেসনোটকে মিথ্যাচার আখ্যা দিয়ে বলেন, দেশের জনগণ এ প্রেসনোট প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আরো বলেন, আগামী ১১ অক্টোবরের মধ্যে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘোষণা প্রত্যাহার না করলে সুন্দরবন রক্ষায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর আগে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বাগেরহাটে পৌঁছে লংমার্চ।
দিগরাজের সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, সুন্দরবন আমাদের মা। তাই যেকোনো মূল্যে আমরা আমাদের মাকে রক্ষা করব। সুন্দরবন আছে বলে আমরা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাই। সেই সুন্দরবন ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে রামপালে বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। বিদ্যুত্ উত্পাদনের বিকল্প আছে, কিন্তু সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সুন্দরবন মাকে বাঁচাতে হবে।
