প্রথম ইন্টারভিউ দিতে ফেসবুক অফিসে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাননি। অপেক্ষা করেছেন দুই-তিন ঘন্টা। তারপর জানতে পারলেন, ফেসবুক অফিসের সব ইঞ্জিনিয়াররা সারারাত ধরে কোডিং ও স্ট্রাকচারের কাজ করে ঘুমাচ্ছিলেন অফিসেই। এজন্যই এত অপেক্ষা। একজন নারী প্রকৌশলী হয়ে তার সেই ঘটনায় যে ভয় বা সংকোচ কাজ করার কথা ছিলো। তিনি ভয় তো পাননি বরং আরো বেশি উত্সাহী হলেন ফেসবুকে কাজ করার জন্য। সেটা ২০০৫ সালের কথা। আমরা এতোক্ষণ বলছিলাম ফেসবুকের প্রথম নারী প্রকৌশলী রুচি সাংভির কথা।
১৯৮২ সালে জন্ম ভারতের পুনেতে। জন্ম নেয়া রুচি সাংভি পড়াশুনা করেন সফটওয়্যার প্রকৌশল বিষয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িত্ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। সেখান থেকে তার অদম্য ইচ্ছা আর কাজের দক্ষতার বদৌলতে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ফেসবুকের প্রথম নারী প্রকৌশলী হয়ে যান। এর আগে ওরাকলেও প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন।
২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে ফেসবুকের ‘নিউজ ফিড’ তৈরির দলের সদস্য হিসেবে সাফল্য অর্জন করেন ও তার ব্লগ পোস্টে তা ঘোষণা করেন। নিউজ ফিডের ব্যাপারটা অনেকের কাছেই খুব একটা ভালো লাগেনি ও সেটা বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। পরে ফেসবুকের প্রাইভেসী অপশন আরো উন্নত করে তার সমালোচকদের জবাব দেন। রুচির জন্য তার ক্যারিয়ারের যাত্রা সহজ ছিল না। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম কম্পিউটার ব্যবহার করেন। বিশ্বের প্রথমসারির সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটে কাজ করা তার জন্য ছিলো দূরের বাতিঘর। অনেক কাঠখড় পোঁড়াতে হয় রুচিকে তার বর্তমান অবস্থানে আসার জন্য। তিনি বলেন, ‘গন্ডি ভেঙ্গে বেরিয়ে আসা কঠিন। তার চেয়ে কঠিন সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। আশাকরি আরো অনেক মেয়ে আমায় দেখে অনুপ্রাণিত হবে ও বিভিন্ন পেশার উচ্চস্তরে যাবে।’ ২০১০ সালে রুচি কিছু সময়ের জন্য ফেসবুক ত্যাগ করে। আদিত্য আগারওয়ালের সঙ্গে ২০১১ সালে অনলাইন স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান হিসেবে মিলেকাভার নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। ২০১২ সালে ফাইল জমা রাখার জনপ্রিয় সেবা ড্রপবক্স কাভারকে নিজের করে নেন। রুচি ড্রপবক্সের কার্যকরী দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন। তরুণ রুচি আরও অনেক কিছু করতে এবং নিজের সেরা পেশা গড়তে চান প্রকৌশল পেশাতেই। ২০১১ সালে ফেসবুকে নিজের সেরা কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ‘সেরা প্রকৌশলী লিডারশিপ পুরস্কার’।
