আন্তর্জাতিক

রেকর্ড গড়লেন মারকেল

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:২৯
জনমত জরিপগুলো আগে থেকেই জানান দিচ্ছিল জার্মানির নির্বাচনে আবারো জয়ী হচ্ছেন আঙ্গেলা মারকেল। নির্বাচনে জয়লাভ করে ইতিহাসই গড়লেন তিনি। বিশেষ করে একজন নারী হয়ে তিন দফা চ্যান্সেলর পদে বিজয়ী হওয়া সত্যিই ঐতিহাসিক ঘটনা। মারকেলই একমাত্র নারী যিনি তিনবার জার্মানির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হলেন। সাফল্য-ব্যর্থতা আছে। কিন্তু তার মতো নিরঙ্কুশ জনপ্রিয়তা পুরো জার্মানিতে আর কারো নেই। ইউরোপের সব থেকে বলিষ্ঠ নেতাও তিনি। রাজনৈতিক জীবনে মারকেলের অবদান এবং অর্জনের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। বিগত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের প্রথম সারির ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ফোর্বসের জরিপ অনুযায়ী ৫৯ বছর বয়স্ক মারকেল এখন বিশ্বের সব থেকে ক্ষমতাধর নারী। তার শাসনামলে জার্মানি আবার ইউরোপের প্রধান পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দায় সারা বিশ্ব কাবু হয়ে পড়লেও মারকেলের কঠোর হস্তের শাসনের কারণে জার্মানিতে মন্দার প্রভাব পড়েনি সেভাবে। মারকেলের পররাষ্ট্রনীতি মাঝে-মধ্যে নিন্দিত হলেও নিজ দেশের জন্য বাইরের শক্তিকে কখনো ছাড় দেননি তিনি। একই সাথে বিভিন্ন দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। পুরো নাম আঙ্গেলা ডরোথিয়া মারকেল। জন্ম হামবুর্গে। জন্মের পরপরই তার পরিবার পশ্চিম থেকে পূর্ব জার্মানিতে চলে যান। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে যখন পূর্ব জার্মানির বহু বছরের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হচ্ছিল, তখন সেখানে গণতান্ত্রিক জোটের মুখপাত্র হয়েছিলেন মারকেল। ১৯৯০ সালে পূর্ব জার্মানির সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রী লোথার ডে মেসায়ারের সরকারের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মারকেল সেই বছরই হেলমুট কোলের হাত ধরে ঐক্যবদ্ধ জার্মানির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। চ্যান্সেলর কোলের মন্ত্রিসভায় ১৯৯১ সালে পরিবার বিষয়ক এবং ১৯৯৪ সালে পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৯৮ সালে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক দলের সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০০ সাল থেকে দলের সভানেত্রী। রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন দলে অনেক ঝানু রাজনীতিক থাকলেও, মারকেল প্রতিভা আর কৌশলের জোরে সবাইকে পাশ কাটিয়ে দেশের রাজনীতিতে নিজ অবস্থান গড়ে নেন। মারকেল শুধু একজন সফল রাজনীতিকই নন। পড়াশুনাতেও ছিলেন দুর্দান্ত। কৃতিত্বের সাথে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়াশুনা শেষ করেছেন।