২০১৩ এইচএসসি পরীক্ষার কৃতী শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করতে গত ২০ সেপ্টেম্বর গ্রীন ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে আয়োজিত হল এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। প্রায় ৮০০০ শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মুখরিত অনুষ্ঠান স্থলে সকল বোর্ডের সর্বমোট ২০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। পুরস্কার প্রদান শেষে জমকালো লাইটিং আর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে উঠে মেধাবী শিক্ষার্থীরা। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বালাম আর এল.আর.বি নিয়ে আইয়ুব বাচ্চুর গানের তালে তাল মিলিয়ে বাঁধ ভাঙা উল্লাসে তারুণ্যের জয়গান প্রতিধ্বনিত হয় তাদের সবার কণ্ঠে। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালকের দায়িত্বে থাকা আরজে সায়েম ও নওশীন এর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা এই তরুণদের অংশগ্রহণকে আরও উচ্ছ্বলতায় পরিপূর্ণ করে তোলে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায় তাদের কিছু কথা—
সিটি কলেজের সোমা-তুজ-জোহরা প্রথমেই স্মরণ করলেন সেদিনের শপথ বাক্যের কথা। সকলে দাঁড়িয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে দুর্নীতি ও মাদক থেকে সারাজীবন দূরে থাকার শপথ বাক্যটি যেন মুহূর্তেই প্রাণে ধারণ করে নেন সেদিন উপস্থিত কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের শপথ বাক্য হয়ত আমরা আগেও পাঠ করেছি, কিন্তু আমাদের মেধাকে সম্মানিত করতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এই কথাগুলো নতুন করে বলে যেন নতুন উদ্যমে আমরা নিজেদের আলোকিত করার সাহস পেলাম।’
ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজের মুশরাত জাহান বলেন, ‘গ্রীন ইউনিভার্সিটির এ আয়োজন অবশ্যই প্রশংসনীয়, মেধাবীদের মূল্যায়নে তাদের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। এ ধরনের অনুপ্রেরণা আমাদের সামনের দিনগুলোতে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রবলভাবে সাহায্য করবে।’
ফারহানা হাসান এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সামনেই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে তারা বেশ চিন্তিত। ফারহানা বললেন, ‘১২ বছর ধরে অর্জিত শিক্ষাকে সঙ্গী করে আর কিছুদিন পরই আমাদের মুখোমুখি হতে হবে আরও কিছু পরীক্ষার,আর তার ফলাফলই নির্ধারণ করে দিবে আমাদের পরবর্তী জীবনের লক্ষ্য’।
আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জ্যোতি রানী রায় বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থীর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে, কোন একটি নির্দিষ্ট পেশায় নিজেকে জড়ানোর স্বপ্ন থাকে আর সে বিষয় নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করার স্বপ্ন থাকে, কারোটা পূরণ হয় আবার কারোটা হয় না। আজ এই অনুষ্ঠানে আমাদের পূর্ববর্তী ভাল ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ এ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা পরবর্তী সময়ে আমাদের মেধার প্রকাশ ঘটাতে আরও উত্সাহিত বোধ করছি’।
নটর ডেম কলেজের সাইফুল ইসলাম তামিম-এর ভবিষ্যত্ ইচ্ছা বা স্বপ্ন নিয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘সবার আগে একজন ভাল মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই, নিজের মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে দেশটাকে স্বপ্নের বাংলাদেশে পরিণত করতে চাই আর এজন্য আমাকে অবশ্যই নিজের ভাল একটা অবস্থান তৈরি করতে হবে, তাই সে লক্ষ্যেই নিজেকে প্রস্তুত করছি আসন্ন ভর্তি পরীক্ষার জন্য’।
স্টামফোর্ড কলেজের আদনান শাহরিয়ার অনিক বলেন, ‘অগ্রজরাই আমাদের অনুপ্রেরণার মূল উত্স, আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা তাদের জীবনের নানা ঘটনা, বিভিন্ন প্রতিকূলতা থেকে তাদের আজকের অবস্থানে উঠে আসার কথা যেভাবে বর্ণনা করেছেন তা নতুন করে আমাদের সাহস জুগিয়েছে, আশা জাগিয়েছে, তাদের কথাগুলো মনে রেখে আমরা এগিয়ে যেতে পারব বহুদূর’।
মেধাবীদের এই মিলনমেলায় আলোকিত ভবিষ্যত্ গড়ার শপথে উদ্দীপিত শিক্ষার্থীরা সকলেই দেশের জন্য কিছু করার তাগিদে নিতে চান প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ। নিজেদের লক্ষ্য আর স্বপ্ন পূরণের আশায় নিজেদের প্রস্তুত করে গড়ে নিতে চান সুন্দর সফল জীবন।
