পাঠকের কলাম

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩০
গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদী আদুরীকে কি নির্মমভাবে অত্যাচার করেছে। অমানবিক, বীভত্স। আধুনিক সমাজে এসেও সেই প্রাচীন দাস প্রথার নতুন মঞ্চায়ন শুধু আমাদের দেশেই না, সারা বিশ্বে নারীরা সব থেকে বেশি নির্যাতিত হয় নারীদের হাতেই। আমরা এর প্রমাণ পাচ্ছি প্রতিনিয়ত। কিছুদিন আগে পত্রিকার পাতা খুলে মনটাই খারাপ হয়ে গেল। আদুরী নামের একটি ছোট্ট মেয়ে বাসাবাড়িতে গৃহপরিচালিকার কাজ করতো। সে যে বাড়িতে কাজ করতো সেই বাড়ির গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদী আদুরীকে কি নির্মমভাবে অত্যাচার করেছে। অমানবিক, বীভত্স। আধুনিক সমাজে এসেও সেই প্রাচীন দাস প্রথার নতুন মঞ্চায়ন। পত্রিকায় পড়ে জেনেছি, আদুরীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরের এমন কোনো স্থান নেই যেখানে নির্যাতনের চিহ্ন নেই। তাকে গরম ইস্ত্রি দিয়ে ছেঁকা দেয়া হয়েছে, ব্লেড দিয়ে হাতসহ বিভিন্ন স্থান কেটে দেয়া হয়েছে। ঠোঁট, জিহ্বাসহ বিভিন্ন স্থানে পোড়া চিহ্ন রয়েছে। আদুরী জানিয়েছে, তাকে দিনে একবেলা শুধু ভাত খেতে দেয়া হতো। অসুস্থ আদুরী ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। যতটুকু জানাচ্ছে, তার সূত্রেই গৃহকর্ত্রী নদীকে শনাক্ত করা হয়েছে। নদীর মা ইসরাত জাহান, বোন পুষ্পিতাসহ অন্যরাও মারপিট করতেন বলে আদুরী অভিযোগ করেছে। আর আদুরীকে মাসে ৫০০ টাকা বেতন দেয়া হতো। কী নির্মম। সমাজে অর্থ-বিত্তে ভেদাভেদ থাকবেই। তাই বলে এভাবে আমরা দুর্বলের উপর অত্যাচার করবো? আমাদের কী মানবিকতা বোধ জাগ্রত হবে না কোনোদিনও? আমরা আর তবে মানুষ হবো?