জাতীয় সংসদের বরগুনা-২ আসনের উপ-নির্বাচনে জয়লাভের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে হারাতে আটঘাট বেঁধে নেমেছে। তারা মাঠে না থাকলেও নেপথ্যে থেকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলন নয়, মূলত এন্টি আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যেই ভোটের লড়াই হবে। ফলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও বিরোধীদের সম্মিলিত তত্পরতার কারণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।
২০০৮-এর জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মত আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম সবুর এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২৫ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় গোলাম সবুর নিহত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। আগামী ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য এই উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শওকত হাচানুর রহমান রিমন, ইসলামী আন্দোলনের গোলাম সরওয়ার হিরু এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সোবহান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগে মতবিরোধ ও ক্ষোভ থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে দলটি। আর তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু মীমাংসা না হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিএনপি চাইছে না আসনটি আওয়ামী লীগ পুনর্দখল করুক। আর এ কারণেই তারা নেপথ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী গোলাম সরওয়ার হিরুর পক্ষে কাজ করছে। বিএনপি’র একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, এই আসনের সাবেক বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনির সাথে রিমনের পুরনো দ্বন্দ্ব রয়েছে। মনি চাইছেন না রিমন উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করুক। কারণ রিমন ছাড়া আওয়ামী লীগের অন্য যে কোন প্রার্থী মনির জয়লাভের ক্ষেত্রে নিরাপদ। এই আসনে বিএনপি’র অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী বিরোধী দলীয় নেতার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনও একই কারণে রিমনকে উপ-নির্বাচনে হারাতে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিরু।
এদিকে আমাদের বামনা (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, শনিবার রাতে বামনা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে গোলাম সরওয়ার হিরু নির্বাচনে কারচুপির আশংকার কথা জানিয়ে বলেন, তার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত। তবে ব্যাপক কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দিয়ে তাকে পরাজিত করা হতে পারে।
