পৃথিবীর সীমানা ছাড়িয়ে এবারে মহাকাশেও জায়গা করে নিচ্ছে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার উদ্যোগেই মহাকাশে যাত্রা করতে যাচ্ছে এই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারগুলো। আগামী বছরের শুরুর দিকেই এগুলোকে পাঠানো হবে মহাকাশে। মহাকাশ যানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ছোটখাট যন্ত্রপাতি মহাকাশেই তৈরির জন্য এসব প্রিন্টার পাঠানো হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে মহাকাশ যাত্রার খরচ অনেকাংশেই কমানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে নাসা। নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশে স্পেস স্টেশনের বদ্ধ একটি পৃথক স্থানে ব্যবহার করা হবে এই ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারগুলো। ‘মেড ইন স্পেস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এই প্রিন্টারগুলো তৈরি করানো হবে। প্রতিষ্ঠানটি নাসার জন্য ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার তৈরির কাজ পেয়ে অত্যন্ত খুশি। ‘মেড ইন স্পেসে’র প্রধান নির্বাহী অ্যারন কেমার এর প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘মহাকাশে কাজ করার সময় পৃথিবী থেকেই প্রয়োজনীয় সবকিছু নিয়ে যেতে হয়। কোনো জরুরি অবস্থায় হঠাত্ ছোটখাট কিছু দরকার পড়লে তা না থাকলে সেটা বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারগুলো এই সমস্যার খুব সহজ একটি সমাধান। একটি ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার থাকলে আর পৃথিবী কিংবা মহাকাশে সংরক্ষিত বস্তুগুলোর উপর নির্ভর করতে হবে না।’ এ প্রসঙ্গে নাসার এমস রিসার্চ সেন্টারের প্রকৌশল পরিচালক ডেভ করসমেয়ার বলেন, ‘সময়ের সাথে সাথে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। মহাকাশে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার ব্যবহার করে বস্তু তৈরির প্রক্রিয়া মহাকাশের কাজগুলোকে অনেক সহজ করে দেবে।’ মহাকাশচারীদের জন্য এসব ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার ছাড়াও আরও এক ধরনের ত্রিমাত্রিক প্রিন্টার নিয়ে কাজ করছে নাসা। এর মাধ্যমে ছোট ছোট কিছু স্যাটেলাইট তৈরি করছে তারা, যেগুলোকে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন থেকে ছাড়া হবে এবং সেগুলোর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে আনা হবে পৃথিবীতে। সাধারণভাবে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারগুলোতে পলিমারজাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা হলেও শক্তিশালী কাঠামো নির্মাণের জন্য লেজারের মাধ্যমে গলিত টাইটানিয়াম ও নিকেল-ক্রোমিয়াম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নাসার ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারগুলোতে সম্ভবত এর সব ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সুবিধা থাকবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগস্ট মাসেই নাসা ত্রিমাত্রিক প্রিন্টারের মাধ্যমে রকেটের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি করে। এর মাধ্যমে মহাকাশ যাত্রার খরচ অনেকাংশেই কমবে বলে আশাবাদী নাসা।
