জয়ে ফিরলো কলাবাগান

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৬
গতকালকের দিনটাকে পারলে জীবন থেকে মুছে ফেলতে চাইবেন জিম্বাবুয়ের পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় সিকান্দার রাজা। বল হাতে তামিম ইকবালের রেকর্ড করা পিটুনির শিকার হয়ে এক ওভারে ৩৩ রান খরচ করলেন। তার আগে স্বদেশী শেন উইলিয়ামসের হ্যাটট্রিকতম শিকার হয়ে ফিরলেন! তামিম ইকবালের বিধ্বংসী ৯৫ রান এবং শেন উইলিয়ামসের হ্যাটট্রিকসহ ২৫ রানে ৭ উইকেটে ভর করে ফতুল্লায় কাল ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৯ উইকেটে হারালো কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমিকে। আর বিকেএসপিতে সাকিব আল হাসানের ফেরার ম্যাচে খেলাঘরের বিপক্ষে ১১৬ রানের বিশাল জয় পেল কলাবাগান ক্রীড়াচক্র। অবশ্য দিনের সবচেয়ে আলোচনায় থাকা শেখ জামাল বনাম আবাহনীর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত গতকাল মাঠেই গড়ায়নি। আগের রাত ও সকালের বৃষ্টিতে মিরপুরে মূল উইকেটের চারপাশ দুপুর পর্যন্ত ভেজা থাকায় দিনের খেলা পরিত্যক্ত করা হয়। আজ রিজার্ভ ডেতে মাঠ ঠিক থাকলে খেলাটি হবে। তামিম ও উইলিয়ামস প্রদর্শনী মূলত বাহাতি ব্যাটসম্যান বলে পরিচিত শেন উইলিয়ামস মাঝে মাঝে বাহাতি স্পিন করে থাকেন। কাল বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে সেই ‘অকেশনাল বোলার’ উইলিয়ামসের বোলিংয়েই ডুবল কলাবাগান অ্যাকাডেমি। এবার লিগের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স তো করলেনই, সেই সঙ্গে লিগের তৃতীয় হ্যাটট্রিকও করলেন। প্রথম দুটি হ্যাটট্রিক হয়েছিল একই দিনে—গত ১৫ সেপ্টেম্বর। বিকেএসপিতে গাজী ট্যাংকের রুবেল হোসেন এবং বগুড়ায় প্রাইম ব্যাংকের তাপস বৈশ্য হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ফতুল্লায় কাল অবশ্য উইলিয়ামস সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। আগে ব্যাট করতে নেমে ১২.২ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৭ রান তুলে ফেলেছিল কলাবাগান অ্যাকাডেমি। ইনিংসের এই ১৩তম ওভারে ষষ্ঠ বোলার হিসেবে বল করতে এসে প্রথম উইকেট নিলেন উইলিয়ামস। এরপর একটার পর একটা উইকেট নিতেই থাকলেন। মধ্যে ইনিংসের ১৯তম ওভারের শেষ দুই বলে এবং ২১তম ওভারের প্রথম বলে যথাক্রমে মাসাকাদজা, পাভেল ও সিকান্দার রাজাকে আউট করে হ্যাটট্রিক করলেন। একে একে উইলিয়ামস টানা সাত উইকেটই তুলে নিলেন অ্যাকাডেমির। একটা সময় মনে হচ্ছিল লেকার বা কুম্বলে কান্ড না ঘটে যায়। তা না হলেও অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুস এসে হাত লাগানোয় ৩৪ ওভারের ম্যাচে ১৪৮ রানে অলআউট হয়ে যায় অ্যাকাডেমি। জবাব দিতে নেমে দলীয় ২৫ রানে ওপেনার ইমতিয়াজকে হারালেও নাফীস-তামিম ভাতৃদ্বয় আর পেছন ফিরে তাকাননি। দুজনে দ্বিতীয় উইকেটে ১২৯ রানের অপরাজিত জুটি করে দলকে সহজ জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। এর মধ্যে তামিমের ঝড়ো ৯৫ রানের পাশাপাশি তার বড় ভাই, ইনফর্ম নাফীস অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। আবার জিহান মোবারক খেলাঘরের বিপক্ষে কলাবাগানকে সুপার ফেবারিট বললেও কম বলা হয়। কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই, কলাবাগানের নিজের ছন্দে না থাকা। সেই ছন্দ ফেরাতে কাল অনেকটা আগে ভাগেই ইনজুরি থেকে মাঠে ফিরেছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সাকিব নিজে ব্যাটে-বলে মোটেও ভালো কিছু করতে না পারলেও তার ছোয়া মনে হয় কাজেই লাগল; ১১৬ রানের বিশাল জয় পেল কলাবাগান। আর এই জয়ে আবারও ব্যাটে-বলে নায়ক সেই জিহান মোবারক। আগে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৫ রানেই ওপেনার মাহমুদুল করিমকে হারায় কলাবাগান। এরপর মিঠুন আলী ও জিহান ১৪১ রানের এক বিশাল জুটি গড়েন। মিঠুন ৭৯ ও জিহান ৬৯ করে ফিরে আসেন। আবার কলাবাগানকে বড় একটা জুটি করে টেনে নিয়ে যান কাপুকেদেরা ও নাঈম ইসলাম। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন ৬৬ রান যোগ করেন। কাপুকেদেরা ৫৮ রানে ফিরে আসেন। নির্ধারিত ৩১ ওভারে ২৪৮ রানের পাহাড় গড়ে কলাবাগান। এই রান পাড়ি দিতে গিয়ে কখনোই কক্ষপথে ছিল না খেলাঘর। দুই লঙ্কান বোলার লোকুহেত্তিগে ও জিহানের আক্রমণ ও কৃপণতায় ৭ উইকেটে ১৩২ রানের বেশি যেতে পারেনি খেলাঘর। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ স ং ক্ষি প্ত স্কো র ব্রাদার্স ইউনিয়ন—কলাবাগান অ্যাকাডেমি কলাবাগান অ্যাকাডেমি: ৩২.১ ওভারে ১৪৮/১০ (মাসাকাদজা ৩৯, শরিফউল্লা ৩০; শেন উইলিয়ামস ৭/২৫, সেনানায়েকে ২/২৭)। ব্রাদার্স ইউনিয়ন: ২২.৩ ওভারে ১৫৪/১ (তামিম ৯৫*, নাফীস ৩৬*) ফল: ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৯ উইকেটে জয়ী ম্যান অব দ্য ম্যাচ: শেন উইলিয়ামস কলাবাগান—খেলাঘর কলাবাগান: ৩১ ওভারে ২৪৮/৭ (মিঠুন আলী ৭৮, জিহান মোবারক ৬৯, কাপুকেদেরা ৫৮; ইমরান ৩/৪০, মাসুম ২/৪১)। খেলাঘর: ৩১ ওভারে ১৩২/৭ (ফোরকান ৩০*, মাসুম ২১; লোকুহেত্তিগে ৩/১২, জিহান মোবারক ২/২৪) ফল: কলাবাগান ১১৬ রানে জয়ী ম্যান অব দ্য ম্যাচ: জিহান মোবারক