এবারই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগকে ‘লিস্ট এ’ ম্যাচ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। আর এই মৌসুমেই লিগের খেলোয়াড়রা এই ফরম্যাটের রেকর্ড বইয়ে নাম লেখানোর প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছেন। প্রথম মোমিনুল হক ও রোশানে সিলভা চতুর্থ উইকেট জুটির বিশ্বরেকর্ড করলেন বগুড়ায়। এবার তামিম ইকবাল বিশ্বরেকর্ড না করতে পারলেও রেকর্ড বইয়ের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেলেছেন। গতকাল ফতুল্লায় খেলাঘরকে ৯ উইকেটে হারানো ম্যাচে তামিম সিকান্দার রাজার এক ওভার থেকে ৩২ রান (মোট ৩৩) তুলে নিয়ে লিস্ট-এ ম্যাচের এক ওভারে চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড করে ফেললেন। এই রেকর্ড করে দলকে ম্যাচ জিতিয়ে রীতিমতো স্বস্তির বিশ্রাম নিতে থাকা তামিম গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্তও জানতেন না, এই ওভারটি তাকে রেকর্ড বইয়ে নিয়ে গেছে। এই প্রতিবেদকের ফোনে খবরটা পেয়ে উত্ফুল্ল প্রতিক্রিয়াই জানালেন, ‘তাই নাকি! যে কোনো রেকর্ডেই নাম লেখানোর একটা ভালো অনুভূতি আছে। তবে আমি আসলেই জানতাম না যে, এটা রেকর্ড। ফলে পরিকল্পনা করে আক্রমণ করার প্রশ্নই আসে না।’ তবে ব্যাপারটা কিভাবে হল, সেটার ব্যাখ্যা তামিম দিয়েছেন। জিম্বাবুয়ের পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত তারকা সিকান্দার রাজার সেই ওভারটা ছিল ইনিংসের ১৮তম ওভার। ওভারের প্রথম, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে চারটি ছক্কা মেরে দিলেন তামিম। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ছিল দুটি চার। আর চতুর্থ বলটি করার আগে একটি ওয়াইড ডেলিভারি ছিল। সবমিলিয়ে ৩৩। ওভারটা একবার ফিরে দেখুন—৬, ৪, ৪, ১, ৬, ৬, ৬!
তামিম পরিস্থিতিটা বললেন, ‘ওই সময় আমরা রান ঠিকমতোই তাড়া করছিলাম। কিন্তু একটা বড় ওভার হলে কাজ সহজ হয়ে যেত। তাই সিকান্দার রাজার ওভারটা টার্গেট করেছিলাম। প্রথম তিন বলে ব্যাটে-বলে ঠিকমতো হওয়াতে ওর ওপরও চাপ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আমি জাস্ট নিজের শটটা করে গেছি।’ এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে তামিম এবার লিগে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির খুব কাছেও চলে গিয়েছিলেন। ৪৯ বলে ৫০ রান করা তামিম পরের ১৬ বলে যোগ করে ফেললেন আরও ৪৫ রান! সেঞ্চুরি করার মতো যথেষ্ট রান বাকি না থাকায় ৯৫ রানে অপরাজিত থেকেই ফিরে আসতে হয়েছে তামিমকে। তাতে আফসোস নেই তামিমের।
আফসোস না থাকার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন, ‘সেঞ্চুরি তো আসলে সম্ভব ছিল না। শেষদিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করায় কাছাকাছি গিয়েছিলাম। রান থাকলে সেঞ্চুরি করতে না পারলে আফসোস করতাম। এখন তো আফসোস করার কারণ নেই।’
