হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হারুণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ফাটল। বিম ও পিলারের ইট-সুরকি খসে এ পর্যন্ত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। দরজা-জানালাগুলো জরাজীর্ণ। বৃষ্টির পানি প্রতিরোধে ছাদে ব্যবহার করা হয়েছে পলিথিন। গত ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। এ নিয়ে ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকমহল উদ্বিগ্ন। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
জানা যায়, ১৯১০ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর চার কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে। ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় দুই যুগেই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ঝুঁকির মধ্যে বেঞ্চের অভাবে গাদাগাদি করেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। স্কুলের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখা হয়েছে অন্যত্র।
শিক্ষার্থী সাগরিকা রানী ও সৌরভ দাস জানায়, ছাদের প্ল¬াস্টার খসে চোখ-মুখে পড়ে। আর বৃষ্টির সময় পানিতে বই-খাতা ভিজে যায়। প্রধান শিক্ষক অনিল কুমার চৌধুরী জানান, পাসের হার অন্যান্য স্কুলের তুলনায় অনেক ভালো। শতভাগ পাসের পাশাপাশি প্রতিবছরই এই স্কুল থেকে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পায়। দ্রুত স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গিরিন্দ্র কুমার চৌধুরী জানান, স্কুলের সমস্যার কথা জানিয়ে শিক্ষা অফিসে একাধিকবার আবেদন জানানোর পরও কোন কাজ হচ্ছে না। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিহির লাল আচার্য জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ব্যাপারে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ বরাবরে লিখেছি। আশাকরি, খুব শিগগির নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের বরাদ্দ মিলবে।
