ডিপ্লোমাপ্রাপ্তরা হবেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৬
দেশের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো থেকে প্রকৌশল বিষয়ে ডিপ্লোমাপ্রাপ্তদের ‘উপ-সহকারী প্রকৌশলী’ হিসেবে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে এখন থেকে এসব ইনস্টিটিউট থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা চাকরিতে যোগ দেয়ার সময় ‘সুপারভাইজার’ নয়, ‘উপ-সহকারী প্রকৌশলী’ হিসাবে নিয়োগ পাবেন। এ জন্য ২০০৮ সালের এ সংক্রান্ত গেজেটটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ‘ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা প্রকৌশলী’ নেতৃবৃন্দের যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে শিক্ষা সচিব কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এ সময় পূর্ত সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে সারাদেশে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সহিংস আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিলো। এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ১৫ দিনের জন্য চলমান আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল মন্তব্য করে পূর্ত সচিব বলেন, একটা ভুল ধারণা থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ডিপ্লোমা পাস করে তারা ‘সুপারভাইজার’ পদে নিয়োগ পাবেন এটা ভুল ধারণা। ইতিমধ্যে ডিপ্লোমাপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের আমরা ‘ডিপ্লোমা প্রকৌশলী’ হিসেবেই বিবেচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং কোনোভাবেই আমরা ‘সুপারভাইজার’ পদ তৈরি করিনি। ‘সুপারভাইজার’ পদটি মূল অর্গানোগ্রামের (কাঠামো) কোনো পদ নয় বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালের এ সংক্রান্ত গেজেট সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত পেলেই গেজেটটি সংশোধন করা হবে। শিক্ষা সচিব সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিনের সমস্যার জন্য সম্প্রতি পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যাগুলো পূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে সমাধান করা হবে। এছাড়া তাদের বিভিন্ন দাবি পূরণ করা হবে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন ধরে যারা আন্দোলন করেছেন এবং পরীক্ষা দেননি- তাদের পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে শিক্ষাসচিবের সাথে বৈঠক শেষে গতকাল বিকালে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ‘বাংলাদেশ কারিগরি ছাত্র পরিষদে’র আহ্বায়ক জাকির হোসেন সাগর। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ১৫ দিন সময় দিয়েছি। এর মধ্যে তারা আমাদের সব দাবি পূরণ করবেন বলে কথা দিয়েছেন। এই ১৫ দিন শিক্ষার্থীরা রাজপথে থাকবে না। তবে যে সব শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মুক্তি দিতে হবে। আমরা তাদের সাথে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে চাই। বৈঠকে কারিগরি শিক্ষার্থীদের বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানো, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের চাকরির ক্ষেত্রে পদোন্নতি এবং ‘প্রকৌশলী’ শব্দের সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করার বিষয়ে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে জাকির হোসেন জানান। প্রসঙ্গত, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০০৮ সালের এক গেজেটে ‘প্রকৌশলী’র সংজ্ঞা থেকে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বাদ দেয়। সে সময় থেকেই পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু আন্দোলনের বিষয়টি আমলেই নেয়নি মন্ত্রণালয়। তবে পরবর্তীতে সরকার ‘প্রকৌশলী’র সংজ্ঞায় ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ফাইলটি দীর্ঘদিন ধরে আইন মন্ত্রণালয়ে পড়ে থাকে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সমস্যা সমাধানে সরকার বেশি সময় ব্যয় করেছে তাই এ আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সরকার আন্দোলন শুরুর দিনই যদি এই সিদ্ধান্ত নিতো, তাহলে গত চারদিনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেতো।