দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে রোল মডেল

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫২
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্ব দরবারে রোল মডেল। বিশ্বমন্দার জন্য যেখানে বিশ্বের অনেক দেশের প্রবৃদ্ধি হার নেমে যাচ্ছে, সেখানে আমরা আমাদের প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছি। দারিদ্র্যের হার শতকরা ৫৬ থেকে ২৬ ভাগের নিচে নিয়ে এসেছি। দারিদ্র্য বিমোচনের এই গতি সারবিশ্বে নজির সৃষ্টি করেছে। সেজন্য বাংলাদেশ সাউথ সাউথ এবং খাদ্য নিরাপত্তার জন্য পুরস্কৃত হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগদান শেষে দেশে ফিরে গতকাল সোমবার বিকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। দারিদ্র্য দূরীকরণে অনন্য অবদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী সম্মানসূচক সাউথ সাউথ পুরস্কার পাওয়ায় বিমানবন্দরে তাকে আওয়ামী লীগ ও নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে আলাদা গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা যা অর্জন করেছি, তা যেন ধরে রাখতে পারি।’ প্রধানমন্ত্রী তার পুরস্কার দেশের জনগণের প্রতি উত্সর্গ করেন। নিউইয়র্ক থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে দুবাই হয়ে গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টায় দেশে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে বিশিষ্ট নাগরিকেরা তাকে স্বাগত ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পুরস্কার সবার প্রাপ্য, বিশেষ করে যারা আমাদের ভোট দিয়ে ২০০৯ সালে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান। কারণ, জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) যখন ২০০০ সালে শুরু করা হয়, তখন আমি প্রধানমন্ত্রী। এখনো আমি প্রধানমন্ত্রী। এমডিজির আটটি লক্ষ্য ২০১৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের আগেই আমরা এর কয়েকটি লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছি।’ তিনি আশা করেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০২০ সালে মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর এলাকায় বিপুল লোকসমাগম হয়। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের ডিন, ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বিমান থেকে নেমে আসার পর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে দলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা ফুল দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এরপর নাগরিক কমিটির পক্ষে একে একে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক হারুনুর রশীদসহ কমিটির নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে বাইরে বের হলে অসংখ্য মানুষ স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গাড়িতে দাঁড়িয়ে হাত উঠিয়ে তাদের অভিনন্দন গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী হ্যান্ড মাইকে করে তাকে অভিনন্দন জানাতে আসা জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ অর্জন আমার নয়, দেশের জনগণের। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা যাতে অব্যাহত থাকে সেজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এরপর গণভবনের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সারা পথেই রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিশেষ করে বিজয় সরণি থেকে গণভবন পর্যন্ত দীর্ঘ পথে তিল ধরনের কোন ঠাঁই ছিল না। অগণিত সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সেখানে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী-সমর্থক। নিউইয়র্কে ৮ দিনের সরকারি সফর শেষে শেখ হাসিনা রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দর থেকে স্বদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন।