শেষ হলো মহাকালের নাট্যো ত্সব

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৩
এক এক করে পথচলার ত্রিশটি বছর পার করেছে দেশের অন্যতম নাট্য সংগঠন মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়। এ উপলক্ষে তেরো দিনের নাট্য উত্সবের আয়োজন করে দলটি। ‘বিশ্বনাটকের যূথ উত্সব’ শিরোনামের এই নাট্য উত্সবটির শেষ দিন ছিল গতকাল সোমবার। সমাপনী অনুষ্ঠান, সম্মাননা প্রদান ও তিনটি নাটক মঞ্চায়ন হয় গতকাল। ‘তিরিশটি শ্রাবণের মেঘশঙ্খে মহাকালের নাটসুর’- শ্লোগান নিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় এ নাট্য উত্সব। শিল্পকলা একাডেমী ও ছায়ানট মিলনায়তনে একযোগে অনুষ্ঠিত হয় এ নাট্যোত্সব। সোমবার সন্ধ্যার সমাপনী আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন একাডেমীর মহাপরিচালক ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যজন লাকী ইনাম, পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন উত্সবের সদস্য সচিব মো. শাহনেওয়াজ। সভাপতিত্ব করেন মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের সভাপতি মীর জাহিদ হাসান। সমাপনী অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও হামদর্দ ল্যাবরেটরীজকে উত্সব স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। এছাড়াও উত্সবে সর্বাধিক প্রদর্শিত নাটকের নাট্যকার আনন জামান, মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের পাঁচ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এফ আই মানিক, মুনীর হাসান, আলমগীর হাসান, সাঈদ হাসান রাজা ও মীর জাহিদ হাসানকে উত্সব স্মারক তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে মূল হলে পরিবেশিত হয় ঢাকা থিয়েটারের ‘ধাবমান’ এবং পরিক্ষণ থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হয় উদীচীর ‘হাফ আখড়াই’। ছায়ানট মিলনায়তনে শেষ দিনে পরিবেশিত হয় ভারতের আগরতলার নাট্যভূমির নাটক ‘মানি ব্যাগ’। এর মধ্যে ইতিহাস ভিত্তিক নাটক ‘হাফ আখড়াই’ বেশ উপভোগ করেন দর্শকরা। একটি নাটকের দলের নেতাদের দ্বন্দ্বকে অবলম্বন করে গড়ে উঠেছে নাটকটির পটভূমি। উদীচীর কেন্দ্রীয় নাটক বিভাগের পঞ্চদশ এই প্রযোজনাটি লিখেছেন রতন সিদ্দিকী এবং নির্দেশনা দিয়েছেন আজাদ আবুল কালাম। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্র রূপায়ণ করেছেন- আমিনুল ইসলাম তপন, মারুফ রহমান, শহীদুল আলম দীপু, জিয়াউর রহমান লিটু, অমিত রঞ্জন দে, নাজমুল হক বাবু, শারমিন আক্তার রিনি প্রমুখ। সমাপনী দিনের সকল নাটক মঞ্চায়ন শেষে উত্সবের সমাপ্তি টানেন উত্সবের আহ্বায়ক আফজাল হোসেন। সমাপনী ঘোষণার সাথে সাথে মিলনায়তন ঢাকের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে এবং সকলে ঢাকের বাদ্যির সাথে নেচে গেয়ে যবনিকা টানেন। বিশ্বনাটকের যূথ উত্সবে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ৩টি নাট্য প্রযোজনা ছাড়াও বাংলাদেশের ২৯টি নাট্য দল এবং ভারতের বিহার, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ৬টি নাট্য দল তাদের নাট্য প্রযোজনা নিয়ে অংশগ্রহণ করে।