মেডিকেল স্টুডেন্ট হবার দীক্ষা তথা প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ১৭:৪৩
ডা.মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন চেয়ারম্যান, ইস্টওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল, আপডেট ডেন্টাল কলেজ, ইস্টওয়েস্ট নার্ির্সং ইনষ্টিটিউট ও আইচি জেনারেল হসপিটাল, ঢাকা। এবার উচ্চ শিক্ষায় অংশগ্রহণ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পালা। ফলাফলের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে কেউ ডাক্তারি, কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা কেউ বিজনেস স্ট্যাডিজ বা অন্য কোন বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সময় যত যাচ্ছে ঘনিয়ে আসছে পরীক্ষার দিন ক্ষণ সেই সাথে টানটান উত্তেজনা ও তীব্র স্নায়ুর চাপ। যদিও সময় ধরে পরিকল্পিত ভাবে অগ্রসর হলে এত চাপ বা নিদ্রা ভগ্নের কিছুই নেই। তবে শুরুতেই যে কথাটি আমি বলতে চাই সেটি হল, তুমি আসলেই কি ডাক্তারি পড়তে চাও, নাকি এটি তোমার বাবা মায়ের ইচ্ছা পূরনের নিমিত্তে অন্তত এজাতীয় সিদ্ধান্ত অন্যের ইচ্ছায় পুরন হবার নয়, কারন এটি কোন পরিধেয় বস্ত্র বা খেলনা চুজের বিষয় নয় যে পছন্দ না হলে খুলে ফেললাম বা ফেরত দিয়ে দিলাম! বিশেষকরে অভিভাবকদের বলবো, দয়া করে আপনারা বাচ্চাদের মতো এমন অবাস্তব বায়না ধরা থেকে বিরত থাকুন এবং আবেগতাড়িত হয়ে এসব বিষয় অন্তত বাচ্চাদের উপর চাপিয়ে দিবেন না । তোমাদের হাতে খুবই অল্প সময় কিন্তু সিলেবাস পাহাড়সম। বিশেষ করে পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানের মোট ৬ টি বইয়ের খূঁটিনাটি মাথায় রাখাটা আবশ্যক। বিষয়ভিত্তিক পড়ার টেকনিক: সাধারণ জ্ঞান: সাধারণ জ্ঞান বই থেকে বাংলাদেশ বিষয়াবলি এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি দেখে নাও। এই বইটির শেষে বিসিএস, পুলিশে ভর্তি, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ইত্যাদি যত প্রশ্ন আছে, সব মুখস্থ করে ফেলো। তারপর ধীরে ধীরে এই বইয়ের অন্যান্য বিষয়গুলো দেখ। ইংরেজি: বিগত বছরগুলোর মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রশ্নপত্র থেকে ইংরেজী প্রশ্নগুলো (যেমন Voice, Narration, Synonym ইত্যাদি), সমাধান করার পাশাপাশি ভালো কোন গ্রামার বই থেকে ওই বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পড়তে হবে। পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গাণিতিক সমস্যা : পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গাণিতিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য বিগত দশ বছরের মেডিকেল এবং ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নোত্তর মুখস্ত করতে হবে। প্রতিদিন ২০০ প্রশ্নের উত্তর বই দেখে দাগিয়ে আয়ত্ত করে ফেলতে হবে এবং বিগত দশ বছরের এই প্রশ্ন সম্ভার বার বার রিভিশন দিতে হবে। ফাইনাল পরীক্ষার আগের দিন কি করণীয়: পরীক্ষার কমপক্ষে ২ দিন আগে প্রিপারেশন শেষ করা জরুরী। ফাইনাল পরীক্ষার ঠিক আগের দিনটিতে পড়ালেখা করার কোন দরকার নেই। রিল্যাক্স মুডে থাকো। নিজের সিট কোথায় পড়লো, সেটা একবার দেখে আসাটা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে টেনশন মুক্ত থাকা যায়। ফাইনাল পরীক্ষার দিন করণীয়: যেখানে তোমার সিট পড়েছে, সেই হল খুলে দেয়ার সাথে সাথেই ঢুকে পড়ো এবং ধীরস্থির হয়ে বসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন বল পয়েন্ট কলম, পেন্সিল, ইরেজার, প্রবেশপত্র, ক্যালকুলেটর (যদি নিতে দেয়) শেষ বারের মত আর এক বার চেক করে নাও। এর পর প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর সাবধানে নির্ধারিত ঘরগুলো পূরণ করো। কোন অবস্থাতেই যেন ও. এম.আর ফরমের নির্ধারিত ঘরগুলো পূরণে ভুল না হয়। প্রথম ৩০ মিনিটে ৫৮-৬০ টি এম.সি.কিউ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ফেলতে হবে। পরের ২০ মিনিটে বাকী ৪০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। শেষ ৮-১০ মিনিট রিভিশন এবং উত্তর না দেয়া প্রশ্নগুলো সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। কোন একটি প্রশ্ন না পারলে সেটির পিছনে অযথা সময় নষ্ট করা যাবেনা। তোমাদের সাফল্য কামনা করি সঙ্গে এটিও বলে রাখি যারা এ শিক্ষায় আসবে তারা মানবসেবার মনোবৃত্তি নিয়ে জ্ঞানার্জনে ব্রতী হবে তাহলেই সমৃদ্ধি আসবে সকলের।