প্রি য় মু খ

নাজিয়ার না জানা কথা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:৩০
থেমে থাকার নাম জীবন নয়। প্রতি পদক্ষেপে অর্জিত অভিজ্ঞতা আর সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করার নামই জীবন। চলার পথে নিজেকে বিকশিত করার চেষ্টায় থেকেছেন নাজিয়া ফেরদৌস। ছোট্ট শহর ঠাকুরগাঁও-এর সদর উপজেলার মেয়ে নাজিয়া। মো. নাজিম ও মোছা. শরীফা খাতুনের বড় সন্তান। মিষ্টি মেয়ে বলে পরিচিত নাজিয়া ফেরদৌস আবৃত্তি, বিতর্ক, গান, অভিনয়, উপস্থাপনা, কবিতা লেখা, গল্প বলে মাতিয়ে রাখতেন স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণ। মেধাবী ছাত্রী হিসেবেই শুধু নয় অসাধারণ আবৃত্তি ও বিতর্কের জন্যও ছিলেন সুপরিচিত। পড়াশুনায় কৃতিত্বের পাশাপাশি অর্জন করে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, শিল্পকলা একাডেমী, ইসলামী ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় আলপনা সাহিত্য সংসদ থেকে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার অসংখ্য পুরস্কার ও সনদপত্র। ২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত নাট্যকর্মী হিসেবে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় ‘নিশ্চিন্তপুর থিয়েটার’র সাথে। করেছেন চারটি মঞ্চনাটক ও অসংখ্য পথনাটক। ২০০৪ সালে ম্যাসলাইন মিডিয়া সেন্টার(এমএমসি) আয়োজিত শিশু সাংবাদিক হিসেবে স্থানীয় শিশুদের উপর প্রতিবেদন তৈরি করে সুনাম অর্জন করেন। জ্ঞানের জগতকে সমৃদ্ধ করতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যোগ দেন ২০০৩ সালে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ‘আসন্ন’ পত্রিকায় ২০০৩-২০০৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হয় তার লেখা ও বিভিন্ন ছড়া। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ২০০৯ সালে ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে। আবৃত্তিকে ভালোবেসে সদস্য হন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আনন্দন’-এর। বিতর্কে পিছিয়ে থাকেননি তিনি। ‘জাহাঙ্গীরনগর ইউনির্ভাসিটি ডিবেটিং সোসাইটি’তে যোগ দিয়ে ২০১০ সালে জুডো আয়োজিত আন্ত:বিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দলীয় ভাবে চ্যাম্পিয়ান হন। ২০১২ সালে প্রাণিবিদ্যা বিভাগ আয়োজিত প্রজাপ্রতি মেলায় বারোয়ারী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্দোলনে ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে সোচ্চার থেকেছেন সব সময়। নিজের শখকে প্রাধান্য দিতেও ভুলে যাননি নাজিয়া। বেহালার সুরকে আপন করতে ভর্তি হয়েছেন ‘ছায়ানট’-এ। যোগ দিয়েছেন গরীব শিশুদের সাহায্যের জন্য স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘তরী’তে। বর্তমানে চতুর্থবর্ষের শিক্ষার্থী নাজিয়া ফেরদৌস নিজ যোগ্যতায় সাংস্কৃতিক সংগঠন আনন্দনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। বির্তক সংগঠন ‘জাহাঙ্গীরনগর ইউনির্ভাসিটি ডিবেটিং সোসাইটি’-এর অর্থ সম্পাদকের দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে নিজেকে সমৃদ্ধির শিখরে দেখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তিনি।