বৃক্ষ

নয়নাভিরাম শিরীষ

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ১৯:৪৪

 

পত্রঝরা ও পত্রমোচী বৃক্ষ। আদি নিবাস ইন্দোনেশিয়া, নিউগিনি এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়া। তাছাড়া ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালয় এবং চীনে এ গাছ জন্মে। ইদানীং চাষ হচ্ছে আমেরিকা ও আফ্রিকায়। শিরীষগাছ ছায়াতরু হিসেবে খ্যাত এবং এজন্য উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় ছায়াদানকারী বৃক্ষ হিসেবে চাষ করা হচ্ছে। শিরীষ থেকে পশুখাদ্য ও ঔষধ পাওয়া যায়। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই সুপ্রাচীন কাল থেকে শিরীষগাছ দেখা যায়। কাঠের প্রয়োজনীয়তা মেটানোর জন্য এ গাছ রোপণ করা হয় এবং কোথাও কোথাও আপনাআপনি জন্মে। 

আমাদের দেশে শিরীষগাছ কড়ইগাছ হিসেবে পরিচিত। পরিণত বয়সের একটি শিরীষগাছ বিশাল আকার-আকৃতির বৃক্ষ হয়ে ওঠে। এর কাণ্ড সরল, উন্নত ও গোলাকার। চামড়ার রং সাদাটে থেকে ঘিয়ে রঙের যা মসৃণ বা অধিক বয়স্ক গাছের চামড়া ফাটা ফাটা থাকে। গাছের উচ্চতা গড়ে ১৮ থেকে ৩০ ফুট হয়। এর শাখা-প্রশাখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ছাতার মতো এবং পত্রঘন বিন্যাসে ছায়াসুনিবিড়। এর যৌগিক পাতা আকারে ৭ থেকে ১০ সেন্টিমিটার, বেশ মসৃণ, রং সবুজ এবং পাতাগুলো অবনত থাকে। বড় পত্রদণ্ডে পাতা ধরে, পাতা সুবিন্যস্তভাবে সাজানো। প্রতি পত্রদণ্ডে ৮ থেকে ১৬ টি পাতা ধরে। পাতার বোঁটা বেশ ছোট। শিরীষগাছ শীতকালে তার সমস্ত পাতা ঝরিয়ে দিয়ে পত্রশূন্য অবস্থায় থাকে। পত্রশূন্য গাছের শোভা তখন এর ঝুলন্ত ফলগুলো। বসন্তের শেষে যেই একপশলা বৃষ্টি হয়, তখনি শিরীষগাছে নতুন পাতা দেখা দেয়। নতুন পাতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ফুল-কলির আগমন ঘটে। গাছের শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে থোকায় থোকায় ফুল ধরে এবং সারাগাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। ফুটন্ত শিরীষ ফুলের সৌন্দর্য নয়নাভিরাম। ফুলের রং সাদা থেকে হালকা হলুদ। ফুলের সৌন্দর্য গুচ্ছ-কোমল পরাগকেশরে বিদ্যমান এবং পরাগকেশরের অগ্রভাগ সবুজ। গন্ধ দূরবাহী ও উগ্র। ফুল ফোটার ব্যাপ্তি বসন্ত থেকে গ্রীষ্ম। ফুল শেষে গাছে ফল ধরে। ফল লম্বায় ৮ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। চওড়া ৪ থেকে ৬ সেন্টিমিটার ও চ্যাপ্টা। পরিপক্ব ফলের রং খয়েরি। ফলের ভেতর বোতাম আকৃতির ৬ থেকে ১০ টি বীজ থাকে। বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার ঘটে।

শিরীষগাছের কাঠ বেশ শক্ত, মজবুত, টেকসই ও ভারী। কাঠের চাহিদা পূরণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিরীষের রয়েছে ভেষজ নানান গুণ। গাছের ছাল ও মূল বিষাক্ত পোকা-মাকড়ের কামড়ে বিষক্রিয়া নষ্টে কাজ করে, পাতার রস রাতকানা রোগে উপকারী। তাছাড়া চর্মরোগ ও হাঁপানি দমন এবং দাঁতের মাড়ি শক্ত করে।