বর্তমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, এই নির্বাচন আপিল বিভাগের নির্দেশনা মেনে হচ্ছে না। তাই তিনি এখানে অংশ নিয়ে আদালত অবমাননার ঝুঁকি নিতে চান না। সংবাদ সন্মেলনে কয়েক জন জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের নভেম্বরে বিসিবির নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণ করে নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বে বর্তমান এডহক কমিটি। সেই কমিটিই নানা ঘটনার পর অবশেষে আগামী ১০ অক্টোবর নির্বাচনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টাকার ছড়াছড়ি করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করে সরকার দলীয় এই এমপি বলেন, ‘এসব ঘটনায় আমি বিব্রত বোধ করছি। আমরা আশা করছি, এই সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; কিন্তু একটি ফেডারেশনের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আমরা করতে না পারলে সেটা বিব্রতকর ঘটনা হবে।’
এর আগে সাবের হোসেন চৌধুরী বিসিবি নির্বাচন বিষয়ে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের নির্দেশনার সত্যায়িত অনুলিপি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন। সেখানে তিনি দেখান যে আদালত বলেছেন, শর্তসাপেক্ষে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর সংশোধিত গঠনতন্ত্রের আলোকে বিসিবি নির্বাচন হবে ; কিন্তু নির্বাচন কমিশন নাকি বলেছে, এই নির্বাচন হচ্ছে ২৯ নভেম্বর ২০১২-এর সংশোধনীর আলোকে। যদিও ২১ নভেম্বরের সংশোধনীটি কী, তা কেউ বলতে পারলেন না। তবে এই দুই তারিখের কারণেই সাবের হোসেন চৌধুরী মনে করছেন, ঘোষিত তারিখে নির্বাচন হলে তা পরিষ্কার আদালতের নির্দেশনা লংঘন। তিনি বলেন, ‘আপিল বিভাগের নির্দেশনা মানে আইন। আমি আইন মেনে চলি। তাই আইন অমান্য করে এই নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব না।’
