রাষ্ট্রপক্ষের ৪৫ জন সাক্ষীর বিপরীতে সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন ৪ জন

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ২২:২১
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ৪৫ জন সাক্ষীর বিপরীতে আসামি পক্ষ থেকে ৫ সাফাই সাক্ষী নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। যদিও আসামি পক্ষ থেকে সাফাই সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ১১শ ৫৩ সাক্ষীর নামের তালিকা ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল ৫ জনের বেশি অনুমতি দেয়নি। এর মধ্যে চার জনের বিরুদ্ধে সমন জারি করে ট্রাইব্যুনাল। অপর সাক্ষী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তার প্রতি সমন জারি করেনি। ট্রাইব্যুনাল সাক্ষী নির্দিষ্ট করে দেয়ায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পক্ষে আরো অনেকেই সাক্ষ্য দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তার আইনজীবীরা। এদিকে সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে সম্মত হন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক বিচারপতি শামীম হাসনাইন। ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিন কাদেরের পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতিকে গত ২২ জুলাই লেখা চিঠিতে বিচারপতি শামীম হাসনাইন বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাফাই সাক্ষী হিসেবে আমার নাম দিয়েছেন। আমি স্বীকার করছি যে, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সহপাঠী থাকায় আসামিপক্ষের সাক্ষী হিসেবে আমার নাম দেয়া হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের ১৯৭১ সালের মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছিলেন। আমার কয়েকজন সহকর্মী বিচারপতি বলেছেন, আমি হাইকোর্ট বিভাগের একজন বর্তমান বিচারপতি হওয়ায় কোনো আদালতে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে। একদিকে পেশাগত বিধি মানার বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে বিবেকের দায় আমার মধ্যে কাজ করছে। এ অবস্থায় আমি আপনার পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত চাইছি। এ বিষয়ে আপনার যে কোন সিদ্ধান্তে আমার সম্মতি থাকবে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি তার আবেদনের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেননি। ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে চারজন সাক্ষীর নামের তালিকা দাখিল করা হয়েছিল। এ তালিকায় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শামীম হাসনাইন, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সদস্য কাইয়ুম রেজা চৌধুরী ও বৃটেন প্রবাসী নিজাম আহমেদের নাম ছিল। বিদেশ থাকার কারণে সালমান এফ রহমান সাক্ষ্য দিতে পারেননি। তবে তার পরিবর্তে সাবেক রাষ্ট্রদূত আব্দুল মমিন চৌধুরী সাফাই সাক্ষ্য দেন।