বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিএনপি। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা কেউ এ নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানিয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধে এর আগে দেয়া ছয়টি রায় সম্পর্কেও নিশ্চুপ ছিল বিএনপি। ওই ছয়টি রায়ে দণ্ডিত প্রত্যেকেই অবশ্য ১৮ দল শরিক জামায়াতের বর্তমান ও সাবেক নেতা। তবে প্রথমবারের মতো বিএনপির কোনো নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে সর্বোচ্চ দণ্ডাদেশের পরেও দলটি চুপচাপ থেকেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। রায় ঘোষণার শেষ হওয়ার আগেই দুপুর ১২টার কিছু সময় পর তিনি বেরিয়ে যান। রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে যথাসময়ে বলা হবে।’
মির্জা ফখরুল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থানকালে তার সঙ্গে ছিলেন দলের যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, সহদপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি ও আসাদুল করিম শাহিন। রিজভীও রায় ঘোষণার পরপরই চলে যান। পরে বিকাল ৩টার দিকে আবার কার্যালয়ে ফিরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইতিমধ্যে আইনজীবীরা রায়ের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দলীয় প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দপ্তরে আসেনি। আসলে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।’
দুপুর ১টা ১০ মিনিটে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলেও সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতিও পাওয়া যায়নি। এমনকি দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করা হলে তারাও কিছু বলতে নিজেদের অপারগতা প্রকাশ করেন। জানা গেছে, দল থেকে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে নেতাদের নিষেধ করে রাখা হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে কোন ধরনের প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘এই রায়ে আমরা মর্মাহত। ট্রাইব্যুনালের বিচারের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হয়নি। আমরা আপিল করব, আশা করছি সেখানে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মুক্তি দেয়া হবে।’ ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
