কী করে হলো

ব্যান্ড এইড

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৫০
বিগত শতকের প্রথম দিককার কথা। সে সময়কার নামজাদা জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানির হয়ে আমেরিকায় তুলা কেনার কাজ করতেন আর্ল ডিকসন নামের এক ভদ্রলোক। অন্যদিকে ডিকসনের স্ত্রী জোসেফাইন ডিকসনের অধিকাংশ সময়ই কাটতো ঘরের কাজে। আর ঘরের এসব কাজ করতে যেয়ে প্রায়ই হাত কেটে যাওয়ার মতো সমস্যায় পড়তে হতো জোসেফাইনকে। ফলে কাজ থেকে ফিরে বহুদিনই স্ত্রীর হাতের আঙ্গুলে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিতে হতো আর্ল ডিকসনকে। সে আমলে আজকালকের মতো এমন চটজলদি ব্যান্ডেজ করার মতো উপকরণ পাওয়া যেত না। বরং আলাদাভাবে কেনা গজ আর এক ধরণের আঠালো টেপ বা অ্যাডহেসিভ দিয়েই সারতে হতো ব্যান্ডেজ বাধার কাজটি। কিন্তু আঙ্গুলের মতো ছোটো এবং প্রাত্যহিক কাজে বহুল ব্যবহূত অঙ্গে এ ধরনের ব্যান্ডেজ কখনোই দীর্ঘস্থায়ী হতো না এবং এগুলো বেঁধে রাখাও ছিল কষ্টসাধ্য। কাজেই এই সমস্যাটিকে নিজের মতো করে সমাধানের এক অভিনব পন্থা বের করলেন আর্ল ডিকসন। তিনি এক টুকরো টেপ কেটে নিয়ে তার ঠিক মাঝখানে আটকে দিলেন ছোট্ট এক টুকরো গজ। আর এই গজটিকে জীবাণুমুক্ত করার জন্য এর উপর দিলেন ক্রিনোলিনের প্রলেপ। ১৯২১ সালে আর্ল ডিকসনের এই অন্যরকমের আবিষ্কার খুব শীঘ্রই চোখে পড়লো তার বড়কর্তা জেমস জনসনের। আর্লের বুদ্ধিটি সাথে সাথেই লুফে নিলেন তিনি। সিদ্ধান্ত নিলেন সম্পূর্ণ নতুন ধরনের এই পণ্যটিকে বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার। যে রকম ভাবা সে রকম কাজ। কিছুদিনের মধ্যেই জনসন অ্যান্ড জনসনের তত্ত্বাবধানে বাজারে এলো ব্যান্ড-এইড নামের এই চটজলদি ব্যান্ডেজের উপকরণটি। সেই সাথে আর্ল ডিকসনকে মামুলি এক কর্মী থেকে রাতারাতি বানিয়ে দেওয়া হলো প্রতিষ্ঠানের ভাইস-প্রেসিডেন্ট। যদিও প্রথম দিকে ব্যান্ড-এইডের মতো কাজের এই সামগ্রীটিকে পরিচিত করে তুলতেও ভীষণ বেগ পেতে হয় জনসন অ্যান্ড জনসনকে। এজন্য মজার একটি কৌশলও বেছে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। ১৯২৪ সালে প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বয়-স্কাউটদেরকে বিনামূল্যে ব্যান্ড এইড বিতরণ করতে থাকে জনসন। আর এরই সাথে সাথে বাড়তে থাকে ব্যান্ড এইডের জনপ্রিয়তাও। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৯ সালে বাজারে আসে মেশিনে তৈরি জীবাণুমুক্ত ব্যান্ড-এইড। আর ১৯৫৮ সাল থেকে ব্যান্ড এইড তৈরিতে ভিনাইল টেপের ব্যবহার শুরু হয়।