রাজশাহীর শহীদ জিয়া শিশুপার্ক ও আশপাশের এলাকা বখাটে ও মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) পরিচালিত পার্কটিতে দর্শনার্থী নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এই বিনোদন কেন্দ্রটি দিন দিন দর্শনার্থী হারাচ্ছে।
জিয়া শিশুপার্কের ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জানান, গেটের আশেপাশে প্রতিদিনই বসছে বখাটে যুবকদের আড্ডা। পার্ক থেকে বের হবার উত্তর গেটে গাঁজার গন্ধে টিকে থাকা দায়। অনেক রাত পর্যন্ত চলে তাস এবং জুয়ার আসর। অনেক সময় এদের মধ্যে টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে হাতাহাতিও হয়। পুলিশ মাঝে মাঝে হানা দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এসব বখাটে স্থানীয় এবং প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকে মুখ খুলতে চান না।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানালেন, পার্কের সামনে ও পেছনের রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় এরা নিয়মিত আড্ডা দেয়। পথচারী এবং দর্শনার্থীদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং মেয়েদের যৌন হয়রানি করতেও ছাড়ে না। অনেক সময় উচ্চৈঃস্বরে গান বাজায়। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক দোকানদার জানালেন, এরা জিনিস কিনে জোর করে কম দাম দেয়। তাছাড়া মিলাদ মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিকনিক অথবা বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনের কথা বলে মাঝে মাঝেই টাকা চাইতে আসে।
শিশুপার্কের এক কর্মচারি বলেন, স্থানীয় বখাটেরা অনেক সময় টিকেট না কেটেই পার্কে ঢুকতে চায়। তাদের সাথে সুসম্পর্ক ধরে রাখতে এবং অহেতুক ঝামেলা এড়াতে বিনা টিকেটে ঢুকতে দিতে হয়। তারপরও যখন এরা দলবল নিয়ে ঢুকতে চায় তখন কথা কাটাকাটি এমন কি মারামারিও বেধে যায়। দুই ঈদের সময় এদের উত্পাত বেড়ে যায়। তিনি জানান, বখাটে ও মাদকসেবীদের কারণে শিশুপার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। গাঁজার গন্ধে পার্কের চারপাশে চলাফেরা করা যায় না।
পার্কে বেড়াতে আসা দর্শনার্থী ফরিদা ইয়াসমিন রুবি জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে এসে বখাটেদের অশ্লীল মন্তব্য শুনতে হচ্ছে তাদের। যা খুবই বিব্রতকর। এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে শহীদ জিয়া শিশুপার্ক লিজ নেয়া প্রতিষ্ঠান ঢাকার ডমিস্টেক ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজিক্যাল সার্ভিস এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা বাইরে থেকে এসে এখানে ব্যবসা করছি। কাজেই স্থানীয় বখাটে ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। তবে এই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, দর্শকদের হয়রানি কমাতে সিটি কর্পোরেশনকেও বলা হয়েছে। এছাড়া, আমরা ঈদকে সামনে রেখে শিশুপার্কটি সাজাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছি।
