রাগবী মাঠের জন্য হাহাকার

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫১
২০০৭ সালে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে রাগবী খেলাটা শুরু হয়েছিল। শুরুটা ভালোই ছিল। পল্টন ময়দানে খেলা হলে উত্সুক দর্শক ভিড় জমাতেন। টেলিভিশন পর্দায় দেখা খেলাটা নিজের দেশে হচ্ছে দেখে দর্শকও আনন্দ পেতেন। কিন্তু বিশ্বকাপ ক্রিকেটেকে কেন্দ্র করে পল্টন ময়দানে খেলা বন্ধ হওয়ার পর রাগবী খেলাটা পুনরায় এই মাঠে প্রবেশ করতে পারেনি। মাঠ চেয়েও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পায়নি। থেমে থাকেনি রাগবীর কর্মকর্তারা। মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে, নটর ডেম কলেজ মাঠে, কমলাপুর স্টেডিয়াম এবং মোহামেডান ক্লাব মাঠে খেলা হয়েছে। কিন্তু এই খেলাটি চারদিকে বন্ধ মাঠে হলে দর্শকপ্রিয়তা সৃষ্টি হবে না বলে জানালেন রাগবীর সাধারণ সম্পাদক মৌসুম আলী। তার কণ্ঠে আক্ষেপের সুর, তিনি বহু চেষ্টা করেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মাঠ বরাদ্দ পাননি। মৌসুম আলী জানিয়েছেন, ক্রীড়া পরিষদ চায় না এখানে খেলা হোক। তারা মাঠের সৌন্দর্য ধরে রাখতে চায়।’ স্কুল রাগবী টুর্নামেন্ট উপলক্ষে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে রাগবীর সাধারণ সম্পাদক মাঠের জন্য হাহাকার করলেন। মাঠ না থাকায় খেলাটা আয়োজন করতে পারছেন না। রাগবী খেলাটা দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় করতে হলে উন্মুক্ত মাঠেই হওয়া দরকার বলে মনে করছেন তিনি। বলছিলেন, এই খেলাটা পায়ে খেলতে হয় না। বল হাতে নিয়ে দৌড়ে গেলেই একটা খেলা। খুব কঠিন নিয়ম-কানুন নেই। অতি আধুনিক মাঠেরও প্রয়োজন হয় না। কাদা মাঠেও খেলা যায়। মৌসুম আলী বললেন, পল্টন ময়দান পাওয়া গেলে আমরা বছরে আটটি টুর্নামেন্ট করতে পারি। আমাদের হাতে স্পন্সর আছে। বেশ কিছুদিন আগে পল্টন মাঠে খেলার অনুমতি দেয়ার জন্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন সাংবাদিকরা। কিন্তু তিনি বলেছেন, পল্টন ময়দানে খেলা হলে মাঠ নষ্ট হয়ে যাবে। গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ পল্টন ময়দানের সুরক্ষা করতে চায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। রাগবী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মৌসুম আলী বলছেন, পল্টন ময়দান হচ্ছে খোলা টয়লেট, আমাদেরকে খেলার সুযোগ দেয়া হলে আমরাই মাঠের পরিবেশ রক্ষা করতাম।’ গতকাল দুপুরে সরেজমিনে পল্টন ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে সেখানে আবর্জনার স্তূপ, এবড়োখেবড়ো মাঠ, কোথাও ঘাষ আছে আবার কোথাও ঘাষ নেই। মাটি বেরিয়ে আছে। ভাসমান মানুষদের জন্য পল্টন ময়দান মলমূত্র ত্যাগ করার সবচেয়ে নিরাপদ স্থান। গতকাল দুুপুরে দেখা গেছে, মাঠের মাঝখানে এক ব্যক্তি প্রাকৃতিক কর্ম সারছেন। অথচ এখানে নিয়মিত খেলা হলে ভাসমান লোকজন অবাধে চলাচলও করতে পারে না। খেলা হলে সব সময় কিশোর-তরুণদের দৌড়ঝাপে মুখরিত থাকে পল্টন ময়দান।