ফাঁস হওয়া রায়ের সাথে ঘোষিত রায়ের মিল আছে

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১৫
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়ের সঙ্গে আগের রাতে ফাঁস হওয়া রায়ের মিল রয়েছে বলে জানিয়েছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বুধবার শাহবাগ থানায় ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার একেএম নাসিরউদ্দীন মাহমুদের দায়েরকৃত জিডি (সাধারণ ডায়েরী) থেকে এ তথ্য জানা গেছে। জিডিতে দাবি করা হয়েছে, খসড়া রায়টি ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে কম্পোজের পর তা ‘লিকড’ হয়েছে। এ ঘটনার জন্য ট্রাইব্যুনাল সরাসরি কাউকে দায়ী করেনি। তবে জিডিতে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের কর্মরত কেউ যদি এই অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত থাকেন তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে বেলজিয়াম ভিত্তিক টুডে ব্লগ ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, রায়টি লেখা হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ে। এতে আরো বলা হয়, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই রায় লেখা শুরু হয়েছে। ফাইলের তথ্যে দেখা যায়, এ বছরের ২৩ মে রায় লেখা শুরু হয়। অথচ তখনও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিলো। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি পুরো ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানানো হয়। ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী মোট ২৩টি অভিযোগে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছিলো। এর মধ্যে ১৭টি অভিযোগে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হাজির করে। যেহেতু রাষ্ট্রপক্ষ ১৭টি অভিযোগের পক্ষে সাক্ষী হাজির করেছে তাই এই ১৭টি অভিযোগের বিষয়ে রায় লেখা হয়েছে মর্মে দেখা যায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া রায়ের কপিতে। এর মধ্যে ৯টি অভিযোগে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ৮টি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হয়। ঘোষিত রায়টিও ছিলো সে রকম। বেলজিয়াম ভিত্তিক টুডে ব্লগ ও www.tribunalleaks.be সাইট দাবি করছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ৬ষ্ঠ তলায় একটি কম্পিউটারের ‘ডি-ড্রাইভে’ এই রায়ের কপি পাওয়া যায়। কম্পিউটারের প্রতিটি ফাইল বা ডকুমেন্টের উত্স নির্ণায়ক তথ্য ওই ফাইল/ডকুমেন্টে সংরক্ষিত থাকে। এই তথ্য ওই ফাইল বা ডকুমেন্টের প্রপার্টিজ অপশনে গেলে এটি পাওয়া যায়। এই রায়ের কপিটি যে ফাইলে পাওয়া গেছে তার প্রপার্টিজ পরীক্ষা করে দেখা যায় ‘ডি-ড্রাইভ’ এর আলম নামক ফোল্ডারের সাব ফোল্ডার ‘ডিফারেন্ট কোটর্স এন কোর্টস ক্রিয়েশনের’ মধ্যে আরেকটি সাব ফোল্ডার ‘চীফ প্রসিকিউটর-ওয়ার ট্রাইব্যুনাল’ এর মধ্যে রাখা রায়ের খসড়া কপিটির নাম ছিলো ‘সাকা ফাইনাল-১’। ফাইলটির প্রপার্টিজ অপশনে দেখা যায় ফাইলটি তৈরি করা হয়েছে ২০১৩ সালের ২৩ মে ১২টা ১ মিনিটের সময়। ফাইলের সাইজ ১৬৭ কেবি। মোট পৃষ্ঠা ১৬৪। ট্রাইব্যুনালের রায়টি ছিলো ১৭২ পৃষ্ঠার। ১৬৪ পৃষ্ঠার পর বাকি অংশগুলো ছিলো আদেশের অংশ। ফাঁস হওয়া রায়ের একটি জায়গায় দেখা যায়, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখা হয়েছে যে, ‘বিচারপতিগণ আদালত কক্ষ ত্যাগ করার সময় তিনি উঠে দাঁড়াতেন না। এটি তিনি মাঝে-মধ্যে ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের চেয়ারম্যান এবং মেম্বার সাহেব বলে সম্বোধন করতেন।’ ঘোষিত রায়ের সঙ্গে ফাঁস হওয়া রায়ের অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিল দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে রায়ের কপিটি আইন মন্ত্রণালয়ে গেল কিভাবে? কম্পিউটার প্রযুক্তিবিদরা মনে করেন, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অথবা অন্য কোনভাবে রায়টি ফাঁস করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের জিডিতে যা বলা হয়েছেঃ রায় ফাঁসের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার একেএম নাসিরউদ্দীন মাহমুদ গতকাল বুধবার নগরীর শাহবাগ থানায় একটি জিডি দায়ের করেছেন। এর নম্বর ৮৫। দায়েরকৃত জিডিতে বলা হয়েছে, গত পহেলা অক্টোবর মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন আইসিটি বিডি কেস নং-০২/২০১১-চীফ প্রসিকিউটর বনাম সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় প্রচারের জন্য দিন ধার্য ছিলো। রায় ঘোষণার পরপরই আসামি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যগণ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকালে জানান যে, উক্ত মামলার রায়ের কপি তারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পূর্বেই প্রাপ্ত হয়েছেন। আসামি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকালে আদালত হতে রায়ের কপি সরবরাহ করার পূর্বেই একটি ডকুমেন্ট ক্যামেরার সামনে প্রদর্শন করে বলেন যে, এই সেই ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত রায়ের কপি যা রায় ঘোষণার পূর্বেই তারা প্রাপ্ত হয়েছেন এবং সেটি নিয়েই তারা আদালত কক্ষে প্রবেশ করেছেন। তিনি আরো বলেন যে, আদালত হতে প্রচারিত রায় এবং ইন্টারনেট হতে প্রাপ্ত রায়ের মধ্যে মিল আছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল হতে প্রচারিত সমস্ত রায় ট্রাইব্যুনালেই প্রস্তুত করা হয়। রায় ঘোষণার পূর্বে রায়ের কোন অংশের কপি অন্য কোনভাবে প্রকাশের সুযোগ নেই। কিন্তু তারপরেও কথিত খসড়া রায়ের অংশবিশেষ কিভাবে ইন্টারনেটে প্রচারিত হল বা কিভাবে ট্রাইব্যুনাল হতে খসড়া রায়ের অংশবিশেষ ফাঁস হল তা উদ্বেগের বিষয়। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার প্রতি হুমকিস্বরূপ। উল্লেখ্য যে, www.tribunalleaks.be ওয়েবসাইটে কথিত খসড়া রায়ের অংশ আপলোডেড দেখা যায়। এমতাবস্থায় বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। জিডি দায়েরের পর এসআই মো. সোহেল রানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম। জিডি দায়েরের পর এক প্রেস-ব্রিফিংয়ে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বলেন, “সার্বিক বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে এটি অনুমান করা হচ্ছে যে, কথিত খসড়া রায় ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটারে কম্পোজ করার পর তা কোন না কোন ভাবে ‘লিকড’ হয়েছে। এই বিষয়টি উদঘাটনের লক্ষ্যে শাহবাগ থানায় জিডি করা হয়েছে। আশা করি, সত্য বেরিয়ে আসবে এবং এই ষড়যন্ত্রের সাথে কারা কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করা যাবে। ট্রাইব্যুনালে কর্মরত কেউ যদি এই অপরাধমূলক কাজের সাথে জড়িত থাকেন তবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, আইন ও বিধি অনুসারে রায় ঘোষণার দিনই সাথে সাথে রায়ের সার্টিফায়েড কপি পক্ষগণকে দিতে হয় যা অন্য কোন আইনে দেখা যায় না। তাই সংগত কারণে রায় চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত না করে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ ও রায় ঘোষণা করা হয় না। এ কারণে সাধারণত রায় ঘোষণার ২/১ দিন আগে রায় চূড়ান্ত করা হয়ে থাকে। কেবল সাজা সংশ্লিষ্ট অংশটি রায়ের দিন বিচারকগণ একমত হয়ে চূড়ান্ত করে থাকেন। রেজিস্ট্রার বলেন, “দেখা যায়, কথিত ‘লিকড’ রায়ের খসড়ার সাথে ঘোষিত রায়ের কিছু সাদৃশ্য রয়েছে; কিন্তু এটি আদৌ কোন রায় নয় বা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিলো। একটি সংঘবদ্ধ দুষ্টুচক্র যারা ট্রাইব্যুনাল ও এর বিচারকি কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান তারা এবং যারা এই অপকর্মের সুবিধাভোগী তারাই এই অপকর্মটি করেছে। আমাদের বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছেঃ ট্রাইব্যুনাল গতকাল রায় ফাঁস হওয়া এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের এবং বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের বক্তব্য সম্বলিত বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু বিভিন্ন পত্রিকা উপস্থাপন করেন। এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, “দেশের মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে। আমাদের বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে। এর পেছনে মস্তবড় বিনিয়োগ ও ষড়যন্ত্র আছে।” বিচারপতি বলেন, “আমি না হয় সামান্য একজন বিচারপতি; কিন্তু এই ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানসহ অপর সদস্য বিচারপতিরা তো সামান্য নন। “আমাদের চেয়ারম্যান (এটিএম ফজলে কবীর) প্রায় ৩২ বছর ধরে বিচার কাজ পরিচালনা করছেন।” তিনি বলেন, “আমি সব সময় কোড অব কন্ডাক্ট মেনে চলি। আমাদের তো সব জায়গায় কথা বলা যায় না। আমাদের যা বলার তা ট্রাইব্যুনালে বসেই বলতে হয়।” এরপর প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, “মঙ্গলবার রায় ঘোষণার আগেই সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী, ছেলে ও আইনজীবীরা রায়ের বাঁধাই কপি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে দেখিয়ে বলেছে, রায় আগেই প্রকাশ হয়ে গেছে।” এ ধরনের প্রচারণা চালানোর জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, “আপনারা লিখিত আবেদন করেন, আমরা বিষয়টি দেখবো।” পরে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, বিচার ও বিচারকদের সম্পর্কে যেভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে তা যেন আইনের শাসনকে নস্যাত্ করতে না পারে সেজন্য ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন করুন: সুপ্রিম কোর্ট বার ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষণার আগেই রায় ফাঁসের ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করে এ ঘটনার তদন্তের দাবি জানান তারা। গতকাল বুধবার সমিতির দক্ষিণ হলে আয়োজিত এক সাধারণ সভা থেকে সরকারের প্রতি এই দাবি জানানো হয়। বারের এই সিদ্ধান্ত সম্বলিত রেজুলেশন ঘোষণা করেন সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি। রেজ্যুলেশনে বলা হয়, গতকাল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক একটি রায় ঘোষণার আগেই তা ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় দেশে-বিদেশে উচ্চ আদালতসহ বিচার ব্যবস্থার প্রতি ধূম্রজাল ও অশ্রদ্ধা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি সাবেক এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী। অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, খন্দকার মাহবুব হোসেনের মন্তব্যকে নিয়ে যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রয়াস চালাচ্ছেন, তারা বিচার বিভাগের সুহূদ হতে পারেন না। তারা বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। যারা এর পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন তারা যেন এটা থেকে বিরত থাকেন। ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যারা খন্দকার মাহবুবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, আদালত অবমাননার অভিযোগ আনছেন, তাদের বলি, বার ও বেঞ্চের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করবেন না। এই যে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা কারো জন্য মঙ্গলজনক হবে না। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন ৭২’র দালাল আইনের ট্রাইব্যুনালে প্রধান প্রসিকিউটর ছিলেন। উনি প্রহসনের বিচার সংশ্লিষ্টদের সম্পর্কে বলেছেন। ট্রাইব্যুনালের সম্পর্কেতো বলেননি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালকে বলবো, যারা আপনাদের উপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেছে, ফাঁসি চেয়েছে, তারাই আদালত অবমাননা করেছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি হলো না। ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, খন্দকার মাহবুব বলেছিলেন, বিচারকার্য স্বচ্ছ করতে হবে। তিনি প্রশ্ন করেছিলেন- রায় ঘোষণার আগে রায় কিভাবে বাজারে চলে আসলো, ইন্টারনেটে চলে আসলো। এই প্রশ্ন আজ সারা জাতির। আজ তার মন্তব্যকে প্রসিকিউশন রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে। আমরা বলতে চাই, যদি ট্রাইব্যুনালও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত কোনো দরখাস্ত গ্রহণ করেন তাহলে বার কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্ট থেকে আমরা সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য হবো- সকল আইনজীবী যেন এই ট্রাইব্যুনাল বর্জন করে। সভায় ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এবিএম ওয়ালিউর রহমান, অ্যাডভোকেট এম তাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শহীদুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। ট্রাইব্যুনালের জিডির তদন্ত শুরু করেছে ডিবি পুলিশ এদিকে আদালতের নির্দেশে রায় ফাঁসের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে গতকাল জিডি করার পর পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়ম অনুযায়ী তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এরপরই আদালত তদন্তের নির্দেশ দেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত গোয়েন্দা পুলিশকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ ইতোমধ্যে এর তদন্ত শুরু করেছে।