রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতাদর্শের পার্থক্য থাকলেও দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে। গতকাল বুধবার হাওর অধ্যুষিত ইটনা উপজেলা সদরের কলেজ মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র বিকাশের মূল কথা হলো পরম সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণ। আমাদের দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক রীতি-নীতির চর্চার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরো বেগবান ও অর্থবহ করা।
তিনি আরো বলেন, আমি একটি কঠিন সময়ে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছি। নানা রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রতিনিয়ত আমাদের নাড়া দিয়ে যাচ্ছে।
হাওর এলাকা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অন্য অঞ্চলের লোকের স্বচ্ছ ধারণা ছিল না। বর্ষাকালে এ এলাকা প্রায় ৬ মাস পানির নিচে থাকে বেশিরভাগ লোক তা জানে না। আমি চেষ্টা করেছি এ হাওরকে সবাইকে চেনানোর জন্য।
অ্যাডভোকেট সমরেশ রায়ের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মো. আফজাল হোসেন এমপি, রাষ্ট্রপতিপুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি, ইটনা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ইসলাম উদ্দিন, ইটনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দারুল ইসলাম, গণতন্ত্রী পার্টি নেতা গিয়াস উদ্দিন খান মিল্কী, ইটনা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহবুবুর রহমান ঠাকুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. খলিলুর রহমান প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাশিদা হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকাল পৌনে তিনটার দিকে রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারযোগে ইটনা এসে পৌঁছান। বিকল্প পরিবহন না থাকায় হেলিপ্যাড থেকে রিকশাযোগে গণসংবর্ধনাস্থলে আসেন তিনি। এ সময় তিনি রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ দাঁড়ানো জনতাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
