ঝুঁকিভাতা ৩০ ভাগের দাবিতে সারাদেশে কারারক্ষীদের কর্মবিরতি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩২
শতকরা ৩০ ভাগ ঝুঁকিভাতা করা ও রেশন বাড়ানোর দাবিতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারারক্ষীরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি পালন করেন। এ সময় কারারক্ষীরা সংশ্লিষ্ট কারাগারের জেলার, জেল সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অফিসগুলো অবরোধ করে রাখেন। কারারক্ষীরা তাদের রেশনের গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে দেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কাশিমপুর কারাগার ১ ও ২, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুরসহ দেশের অধিকাংশ কারাগারে কর্মবিরতি পালিত হয়। কারারক্ষীরা জানান, সম্প্রতি পুলিশের কনস্টেবল থেকে সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার সদস্যদের ঝুঁকিভাতা ৩০ ভাগ করা হয়েছে। কারারক্ষীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের ঝুঁকিভাতা ৪শ’ টাকা করে পেয়ে আসছেন। এই ঝুঁকি ভাতা মূল বেতনের ৩০ ভাগ করার দাবি করা হয়। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও সে ব্যাপারে সরকার কোন উদ্যোগ নেয়নি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে কারারক্ষীরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে কারারক্ষীরা কারাগারের জেলার, জেল সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যালয় অবরোধ করে রাখেন। এই বিক্ষোভের সময় কারাগারের কর্মকর্তাগণ কারারক্ষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কারারক্ষীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসব ব্যাপারে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কাশিমপুর কারাগারের জেলার ও জেল সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেউই কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. আশরাফুল ইসলাম খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে রিসিভ করা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, কারারক্ষীদের এই বিক্ষোভের ব্যাপারে প্রত্যেক কারাগারকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। এই বিক্ষোভের পেছনে কারা ইন্ধন জুগিয়েছে-সে ব্যাপারে তদন্ত করতে কারা অধিদফতর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এদিকে রংপুর প্রতিনিধি ওয়াদুদ আলী জানান, কারাগারের একজন কারারক্ষী বলেছেন, তারা সেপ্টেম্বর মাসের রেশন ও ঝুঁকি ভাতা ৪শ’ টাকা উত্তোলন করেননি। তবে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঝুঁকি ভাতা নিয়ে কারারক্ষীদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও মঙ্গলবার রাতে কোন কর্মবিরতি পালন হয়নি। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কারারক্ষীরা কর্মবিরতি পালন করেননি। যশোর অফিস জানায়, গত দুদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষীরা। তারা বেতন ও রেশন তোলা থেকেও বিরত রয়েছেন। তারা রেশনের গুদামে তালাও ঝুলিয়ে দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কারারক্ষী জানান, প্রয়োজনে কারারক্ষীরা অনশনে যাবেন। তবে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার কামরুল হুদা জানান, আমরা কারারক্ষীদের বিষয়টি বুঝিয়েছি। একবারে এই ভাতা পাওয়া সম্ভব না। এটা প্রক্রিয়ার বিষয়। বিষয়টি আইজি (প্রিজন)-কে জানানো হয়েছে। বরিশাল অফিস জানায়, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষীরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। অনেক কারারক্ষী সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও রেশন উত্তোলন করেননি।