দেখা হয় নাই

নিরিবিলি পিকনিক স্পট

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৩, ২০:২৫
বাংলাদেশজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাকৃতিক আর মনুষ্যনির্মিত দর্শনীয় স্থান। মূলত এই স্থানগুলোর কথা মাথায় রেখেই আজকের আয়োজনে থাকছে একটি দর্শনীয় স্থানের বিবরণ। আর আজ এতে প্রকাশিত হলো নড়াইলের নিরিবিলি পিকনিক স্পট-এর কথা। কখনও একঘেয়ে জীবনের ক্লান্তিকে দূরে সরিয়ে ভিন্ন কোনো অভিজ্ঞতার সন্ধানে আবার কখনও বা পরিবারের সকলে মিলে, সহপাঠীদের সাথে নিয়ে কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে আমরা বেরিয়ে পড়ি বনভোজনে। কর্মব্যস্ত বছরের মাঝে একটি দিনের জন্য হলেও মনোরম প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে থেকে চেষ্টা করি নিজেদের চাঙা করে নেওয়ার। আর আমাদের দেশে এভাবে বনভোজনের আনন্দ উপভোগ করার মতো যে কয়েকটি স্থান রয়েছে তারই একটি হলো নড়াইলের নিরিবিলি পিকনিক স্পট। মূলত শীতের সময় এই স্পটটিতে বাড়তি ভিড় চোখে পড়লেও কমবেশি সারা বছরই দেখা মেলে নানা বয়সের উত্সুক মানুষের। আর বেড়াতে আসা এইসব মানুষের জন্য নিরিবিলি পিকনিক স্পটে রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, পুকুরে নৌকা চালানোর সুযোগ, শিশু পার্ক, দোলনা, রোপওয়ে ও মিনি ট্রেনসহ অনেক কিছুই। মূলত নড়াইল জেলা শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লোহাগড়া উপজেলার রামপুরা এলাকায় এই পিকনিক স্পটটির যাত্রা শুরু হয় দিতে ১৯৯১ সালে। এরপর গত প্রায় দুই দশকে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে চিত্ত-বিনোদনের নানা উপকরণ। এখানে রয়েছে বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীদের উপযোগী ১২টি রাইড যার মধ্যে রোপওয়ে, ট্রেন, ওয়াটার বোর্ড প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া রয়েছে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন স্মরণীয় ব্যক্তিত্বের ভাস্কর্য। আর পিকনিক স্পট লাগোয়া মিনি চিড়িয়াখানায় রয়েছে হরিণ, কুমির, ভাল্লুক, অজগরসহ নানা জাতের পশুপাখি এবং বিরল প্রজাতির পেলিকন পাখি। এ ছাড়া এখানকার আর একটি চমত্কার সংগ্রহ হচ্ছে শরণখোলা থেকে সংগ্রহ করা ৭০ ফুট লম্বা একটি তিমি মাছের কঙ্কাল। এখানে যাওয়ার জন্য দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে নড়াইল সদরে এসে সেখান থেকে লক্ষীপাশা বাসস্ট্যান্ডের দিকে যেতে থাকলে হাতের বাঁ দিকে পড়বে নিরিবিলি পিকনিক স্পট। তাছাড়া ঢাকা থেকে মাওয়া ফেরিঘাট এবং কালনা ফেরীঘাট পার হয়ে লোহাগড়া গিয়ে সোজা ১ এক কি.মি. সামনে গেলেও পৌঁছানো যাবে নিরিবিলিতে। আর এই পিকনিক স্পটটি খোলা থাকে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এখানে থাকার আবাসিক ব্যবস্থাও রয়েছে।