গোদাগাড়ীতে নদী ভাঙ্গনে বাড়ি ঘর স্কুল মসজিদ হুমকির মুখে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৫২
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা-মহানন্দা নদীর মোহনার তীর ভাঙ্গছে। এতে করে হুমকিরমুখে পড়েছে পৌর এলাকার সারাংপুর ও সুলতানগঞ্জ গ্রামের ৫ শতাধিক বাড়ি-ঘর, স্কুল, মসজিদ, গোরস্থান, রাস্তা, ব্রীজসহ ফসলি জমি। স্থানীয় লোকজন জানান, পদ্মা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে সারাংপুর গ্রাম থেকে সুলতানগঞ্জ পর্যন্ত ১ কিলোমিটার জুড়ে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত ১ সপ্তাহ ধরে ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ফুট করে নদীর পাড় ভাঙ্গছে। ইতোমধ্যে ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে দেড় হাজার ফলদ ও বনজ গাছ, ৫০ বিঘা ফসলি জমি। তীর ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় নদীর পাড়ে বসবাসকারী লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর ওবাইল্লাহ্ জানান, নদীর ভাঙ্গন এভাবে অব্যাহত থাকলে চলতি বছরেই সুলতানগঞ্জ ও সারাংপুর গ্রামের শতাধিক বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। আর হুমকির মুখে পড়েছে একটি রাস্তা, গোরস্থান, ২টি স্কুল, ১০টি মসজিদ। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, গোদাগাড়ীর নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নিতে প্রকল্প প্রস্তাবনা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই শুষ্ক মৌসুমে নদীর তীরে বাঁধের কাজ শুরু করা হবে। তবে সারাংপুর ও সুলতানগঞ্জ গ্রামে নদী ভাঙ্গন রোধে জরুরি ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। নদীর তীরে বসবাসকারী লোকজনরা নিজেরাই বাঁশের খুঁটি ও গাছ ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করেও কাজ হচ্ছে না। পৌর কাউন্সিলর সুফিয়া খাতুন মিলি বলেন, সারাংপুর ও সুলতানগঞ্জ গ্রামের লোকজন অন্য জায়গায় বাড়ি-ঘর স্থানান্তর করার জন্য জমি খুঁজছেন। এখন নদী ভাঙ্গন রোধে বাধ নির্মাণ না করা গেলেও অস্থায়ীভাবে জরুরীভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দাবি জানান তিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম তুহিনুর আলম নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় এমপি ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীকে অবহিত করা হয়েছে।