রাজশাহী পাসপোর্ট অফিস দালাল চক্রের হাতে জিম্মি

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৮
রাজশাহী বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জমার পর প্রাথমিক আবেদন জমা ও পাসপোর্ট পেতে সাধারণ গ্রাহকদের মাথাপিছু গুনতে হচ্ছে অন্তত ১৫শ’ টাকা। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। পাসপোর্ট অফিসের অসত্ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালরা মিলে গড়ে তুলেছে সিন্ডিকেট। অনুসন্ধানকালে ভুক্তভোগীরা জানান, অধিকাংশ গ্রাহক ঘুষ ছাড়া প্রাথমিক আবেদনই জমা দিতে পারেন না। ফলে একরকম বাধ্য হয়েই সাধারণ মানুষ দালালদের হাতে ঘুষের ১৫শ’ টাকা তুলে দেন। এরপর দালালরা সেই টাকার মধ্য থেকে এক হাজার টাকা আবেদনের কাগজের ভেতরে অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর কাছে জমা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, আবেদনের কাগজের ভেতরে এক হাজার টাকা না থাকলে অফিসের কর্মচারীরা নানা অজুহাতে আবেদন ফেরত পাঠান। ঐ টাকা অফিসের ‘বটম টু টপ’ পর্যন্ত বণ্টন হয়। নিজেদের অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্ন করতে অসত্ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালাল মিলিয়ে গড়ে তুলেছে সিন্ডিকেট। সূত্র জানায়, রাজশাহী পাসপোর্ট অফিসে দৈনিক গড়ে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ আবেদন জমা পড়ে। ভিড়ের কারণে ব্যাংকের কাউন্টারের মত পাসপোর্ট অফিসে কার্যক্রম শুরুর আগেই গ্রাহকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। তবে লাইন থেকে নির্ভুলভাবে দেয়া ৪৫/৫০ জনের আবেদন জমা নেয়া হয়। বাকি অধিকাংশ আবেদনই জমা হয় দালালের মাধ্যমে। এদিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই অফিসের সদর দরজায় ঝুলিয়ে দেয়া হয় তালা। তবে পিছনের দরজা দিয়ে নির্ধারিত সময়ের পরেও চলে জমা নেয়ার কাজ। দালালদের দাবি, পাসপোর্ট অফিসের দুইজন কর্মকর্তা, দুইজন কর্মচারী, একজন নৈশপ্রহরী ছাড়াও নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন আনসার ও একজন পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে তাদের আর্থিক লেনদেন হয়। তারা প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে এক হাজার টাকা করে আদায় করেন। তাদের এ ধরনের কাজের সাথে অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সমর্থন রয়েছে বলেও দালালরা দাবি করেন। চারঘাট উপজেলা থেকে আসা জ্যোতি আগারওয়াল অভিযোগ করেন, সামান্য ত্রুটির অজুহাতে অফিসের অসত্ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গ্রাহকদের আবেদন ফিরিয়ে দেন। পরে ঘুষের বিনিময়ে একই আবেদন দালালের মাধ্যমে জমা নিয়ে থাকেন। মাঝে-মধ্যে সংবাদ সংগ্রহের কাজে সাংবাদিকরা গেলে দালালরা তথ্য না দেয়ার জন্য গ্রাহকদের হুমকি দেয়। কোন কোন সময় অফিসের অসত্ কর্মকর্তাদের ইশারায় দালালরা সাংবাদিকদের ম্যানেজের চেষ্টা চালায়। রাজশাহী পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক সাইদুল ইসলাম বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তার অফিসে দালাল চক্র সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে দালালদের সঙ্গে পাসপোর্ট অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।