বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আবারো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় আইনবিদ এবং যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞ লর্ড কার্লাইল। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচারকাজে আইন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ ছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সে ব্যাপারে তিনি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বিষয়ক সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান লর্ড কার্লাইল এসকিউ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অত্যন্ত আপসমূলক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অভিযুক্ত করেন। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় দেয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়টি গত মে মাসে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রস্তুত করেছিল বলে যে নতুন অভিযোগ উঠেছে, তাতেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ট্রাইব্যুনালে কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণের আগেই রায়টি লেখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সপ্তাহে তিনি ট্রাইব্যুনালের কড়া সমালোচনা করে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ হাইকমিশনার নাভি পিল্লাইকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তাতে কার্লাইল উল্লেখ করেছিলেন যে, ‘রাজপথে উত্তেজনায় ইন্ধন সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত সাজা’ প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক আইনি ও মানবাধিকার কর্মীরা সার্বজনীনভাবে ট্রাইব্যুনালের সমালোচনা করছেন। লর্ড কার্লাইল হাইকমিশনারকে আরো বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারে অবশ্যই কেবল জাতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ীই নয়, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা প্রদর্শন জরুরি। লর্ড কার্লাইল মঙ্গলবার বলেন, যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকারের একজন অভিজ্ঞ কণ্ঠ হিসেবে এই ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়াটির বিরুদ্ধে জরুরি আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা আমার দায়িত্ব বলে মনে করছি। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা এবং একই সাথে সংগঠন ও সরকারের আন্তরিক উদ্বেগ অগ্রাহ্য করছে। আইনি প্রক্রিয়া যথাযথ না চলার আরেকটি উদাহরণ হয়ে রইল সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায়টি। বিচারকালে সাক্ষীদের অপহরণ করা হয়েছে এবং নির্বাহীর হস্তক্ষেপ করার প্রমাণিত তথ্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। লর্ড কার্লাইল বলেন, প্রতিটি রায়ের সময় অনেকেই আশা করেছেন যে, এবার ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আইনসম্মত উদ্বেগে কর্ণপাত করবে; কিন্তু তা দেখা যায়নি।
