মার্কিন সরকারের সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও শীর্ষ রিপাবলিকান নেতৃবৃন্দের মধ্যে হোয়াইট হাউসে বাজেট সংক্রান্ত বৈঠকটি আবারো ফলশূন্যভাবে শেষ হয়েছে। আলোচনায় কোনো ধরনের অগ্রগতি না হওয়ার জন্য উভয়পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে ছাড় না দেয়ার অভিযোগ করছে।
এদিকে অচলাবস্থার কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ-কর্ম গতকাল তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ হয়ে আছে। শিগগিরই এ অচলাবস্থা নিরসনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ফলে মার্কিন অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বুধবার বিকেলে রিপাবলিকান হাউস স্পিকার জন বোয়েনার ও সিনেটে মাইনরিটি নেতা মিচ ম্যাককোনেলের সঙ্গে ওবামার এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়। চলমান অচলাবস্থার কারণে শত শত ফেডারেল কর্মী বেকার হয়ে ঘরে বসে আছে। জাদুঘর ও ন্যাশনাল পার্ক এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা বন্ধ রয়েছে। আর এর ফলে ইতিমধ্যে মন্থর হয়ে পড়া অর্থনীতিও আরো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে বৈঠক শেষে বোয়েনার সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আরো একবার পুনর্ব্যক্ত করলেন যে তিনি আলোচনা করবেন না।’
ওবামা সিএনবিসি’র সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে বলেন, রিপাবলিকানরা সরকারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে একটি বিল পাশ না করা এবং মার্কিন সরকারের ঋণ গ্রহণের সিলিং ১৬ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত না বাড়ানো পর্যন্ত তিনি বাজেট বিষয়ে আলোচনা করবে না। আলোচনা শেষে ওবামা’র মুখপাত্র জে কার্নি এক বিবৃতিতে বলেন, ওবামা এখনো আশা করেন যে, কাণ্ডজ্ঞানের জয় হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা যদি একটি দলের কয়েকজন ‘চরমপন্থি’ লোককে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও বিশ্বাসকে হেয় প্রতিপন্ন করার সুযোগ দিতে মাথা নত করি, তবে আমার পরে যিনিই প্রেসিডেন্ট হবেন, তার পক্ষে সুষ্ঠুভাবে সরকার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। আমি তাদের সেই অনিষ্ট করার সুযোগ দিতে পারি না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যা ঘটেছে তাতে তিনি যারপরনাই মর্মাহত। কারণ এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করার কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এর আগে ওবামা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াল স্ট্রিটের সবচে বড় ব্যাংকগুলোর প্রধানদের সঙ্গেও আলোচনা করে প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন।
এদিকে, এই অচলাবস্থার অবসান না হওয়ায় গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটকদের পার্ক ছাড়ার শেষ দিন ছিল। বাজেট পাস না হওয়ায় সৃষ্ট অচলাবস্থার কারণে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ইওসেমাইট ও গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মতো ন্যাশনাল পার্কগুলোতে আটকে পড়া শত শত পর্যটককে গতকালের মধ্যে পার্ক ছাড়তে নির্দেশ দেয়া হয়। মঙ্গলবার সকালে সরকারি সেবা খাতের কার্যক্রম বন্ধের আদেশ বলবত্ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস ৪০১ স্থানে গেটগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে করে অনেক বিদেশীসহ পর্যটকদের সারাদেশের বিভিন্ন পার্কের প্রবেশদ্বারে হতাশ হতে হয়। তবে যেসব পর্যটক ক্যালিফোর্নিয়ার বিশ্ববিখ্যাত ইওসেমাইটের মতো জাতীয় পার্কের হোটেল, কেবিন ও ক্যাম্পগ্রাউন্ডে অবস্থান করছিলেন তাদের থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে তাদের ৪৮ ঘণ্টা পর (৩ অক্টোবরের মধ্যে) চলে যেতে বলা হয়।
