অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আর্থিক হিসাব দেয়ার বাধ্যবাধকতার বিধান রেখে ‘গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩’র খসড়ার ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রায় চার ঘণ্টা স্থায়ী এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর আগে আনা সংশোধনগুলোও এ আইনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আগে গ্রামীণ ব্যাংক আইনে অনুমোদিত মূলধনের পরিমাণ ছিল ৩৫০ কোটি টাকা। সংশোধিত খসড়ায় সেটা বাড়িয়ে এক হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। আর পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
আগে আইনে পরিচালকের কার্যকাল ছিল না। অন্য আইনের সঙ্গে সংগতি রেখে পরিচালকের কার্যকাল ৩ বছর করা হয়েছে। খসড়া অনুমোদনে আরও বলা হয়, ব্যাংকের রিটার্ন প্রতিবেদন ও বিবরণী সরকারের কাছে ও গ্রামীণ ব্যাংকের কাছে দিতে হবে। এছাড়া ওই আইনে শাস্তিও বাড়ানো হয়। ঋণ পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য দিলে এক বছর পর্যন্ত সাজা ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আগে সাজার মেয়াদ ছিল এক বছর ও জরিমানা ছিল দুই হাজার টাকা।
গ্রামীণ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো বিজ্ঞাপনে বা প্রসপেক্টাসে কেউ নাম ব্যবহার করলে এক বছর সাজা ও এক লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। আগে এই অপরাধের শাস্তির মেয়াদ ছিল ছয় মাস আর এক হাজার টাকা জরিমানা। তবে অনুমোদিত আইনে আগের মতই আয়কর অব্যাহতির সুবিধা রাখা হয়েছে।
এছাড়া সংশোধিত আইনটি ইংরেজী থেকে বাংলা করা হয়েছে। আইনের সংশোধনী আনার পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়ানো হল কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী পরিষদ সচিব বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে সুনির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৪টি বিবেচিত বিষয় (এজেন্ডা) অনুমোদন লাভ করে। ভোজ্য তেলের ভিটামিন এ সমৃদ্ধকরণ আইন ও যশোরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ইমারত নির্মাণের নকশা অনুমোদন বিষয়ক প্রস্তাবে সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয় মন্ত্রিসভায়।
বৈঠকে ২০১৪ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আগামী বছর ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ও আট দিন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি রাখা হয়েছে। মোট ২২ দিন ছুটি থাকবে। শুক্র ও শনিবার ছাড়া প্রকৃত ছুটি ১৬ দিন। এই ছুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও প্রযোজ্য হবে। তবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাইলে এর বাইরে তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন বলে জানান মন্ত্রী পরিষদ সচিব।
‘বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন আইন ২০১৩’র খসড়াও অনুমোদন লাভ করেছে। এছাড়া ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০১৩’ ও ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ২০১৩’ এর অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে টিসিবির খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। টিসিবিকে শক্তিশালী করতে অনুমোদিত মূলধন ৫ কোটি টাকা থেকে ১০০ কোটি করা হয়েছে। জাতীয় রপ্তানি ট্রফি নীতিমালার খসড়াও মন্ত্রিসভায় অনুমোদন লাভ করেছে।
