বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, আমার বক্তব্যে বিচারকদের বিরুদ্ধে কোন কথা ছিল না। কেননা তারা কোন মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন না।
বৃহস্পতিবার একটি দৈনিকে “যুদ্ধাপরাধের বিচারের চ্যালেঞ্জ: এই দুঃসাহস তারা কোথায় পান” শিরোনামে প্রকাশিত সম্পাদকীয়ের প্রতিবাদ করেন।
তিনি বলেন, সম্পাদকীয়ের লেখক বলেছেন, আমি নাকি আমার বক্তব্যের মধ্যদিয়ে দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছি। দেশের বিচার ব্যবস্থা সম্বন্ধে আমার দীর্ঘদিনের বক্তব্য এমনকি ওই পত্রিকার সম্পাদকের লেখা যা বিভিন্ন সময় সংবাদপত্রে প্রকাশ হয়েছে তা তার দেখার সুযোগ হয়নি।
তাহলে লেখক জানতেন দেশের বিচার ব্যবস্থা দলীয়করণের কোন পর্যায় বর্তমানে আছে। তিনি আরো লিখেছেন, জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যখন রায় হয়েছে তখন খন্দকার মাহবুব হোসেন-এর মুখ হতে এ ধরনের কথা শোনা যায়নি। তার এই অজ্ঞতার জন্য আমার দুঃখ হয়। কারণ আমি সেই ব্যক্তি যে সব সময় উচ্চ কণ্ঠে বলে এসেছি, যুদ্ধাপরাধের বিচার আমরা চাই। তবে সেই বিচার হতে হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঊর্ধ্বে। তিনি আরো লিখেছেন আমি বলেছি “জাতীয়তাবাদী” শক্তি যদি ক্ষমতায় আসে, তখন সত্যিকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। “তিনি আমাকে প্রশ্ন করেছেন সত্যিকার যুদ্ধাপরাধী কারা আর কিভাবে জাতীয়তাবাদী শক্তি এই যুদ্ধাপরাধীদের শনাক্ত ও বিচার করবে।
তিনি হয়তো জানেন না এক লক্ষ বিরানব্বই হাজার আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে যারা যুদ্ধকালীন সময় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এদেশের সাধারণ নাগরিকদের হত্যা করেছিল। আমাদের মা, বোনদের শালীনতা নষ্ট করেছিল তাদেরকে শনাক্ত করে একশ পঁচানব্বই জনকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট প্রণয়ন করা হয়েছিল।
কিন্তু বাংলাদেশ সরকার পরবর্তীতে তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়ে পাকিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছিল। স্বাধীনতার ৪০ বছর পর আজকে যাদেরকে নিয়ে, অতীতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করেছে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য যাদের ভোট ভিক্ষা করেছে, তাদের কতিপয় নেতার বিরুদ্ধে মামলা করে বিচার করছে।
তিনি আরো লিখেছেন, সংবাদ সম্মেলনে আরো ভয়ংকর একটি কথা আমি নাকি বলেছি—তা হচ্ছে তার দল ক্ষমতায় গেলে প্রহসনের বিচারের সংগে সম্পৃক্তদের বিচার করা হবে। আমাদের প্রচলিত ফৌজদারী আইনেও মিথ্যা মামলা করা এবং মিথ্যা সাক্ষী দেয়া আইনত দণ্ডনীয়। তাই যদি ভবিষ্যতে প্রমাণ হয় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কাল্পনিক কাহিনীর উপর ভিত্তি করে মামলা তৈরি করা হয়েছে, মিথ্যা সাক্ষী আদালতে দেয়া হয়েছে—তাহলে অবশ্যই তাদের বিচার হবে।
তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে কোন বিচারক কোন মামলার সংগে সম্পৃক্ত থাকেন না। তিনি থাকেন নিরপেক্ষ। মামলার বাদী, বিবাদী এবং যারা মিথ্যা সাক্ষী দেন তারাই ঐ মামলার সাথে সম্পৃক্ত থাকেন। বিচারক বিচার কার্যে যা শুনে বিচার কার্য পরিচালনা করেন মামলার সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা থাকে না। তাই আমার বক্তব্য বিকৃত ব্যাখ্যা করে বিচারকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই মায়াকান্না করে কোন লাভ হবে না। আমার বক্তব্যে ট্রাইব্যুনাল বা বিচার কার্যে নিয়োজিত বিচারকদের বিরুদ্ধে কোন কথা ছিল না। কেননা আমি প্রায় দীর্ঘ ৫০ বত্সর এই আইন অঙ্গনে আছি। বিচারকদের ভাবমূর্তির ব্যাপারে আমি অত্যন্ত সচেতন।
