ওষুধ ব্যবসায়ীরা গতকাল বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘট পালন করেছেন। সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একটানা ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত ছিল। তবে সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর হোসেন মল্লিকের আলোচনার পর ধর্মঘট ৪ ঘণ্টা স্থগিত করা হয়। ওষুধ ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট পালন করেন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এ ধর্মঘটের কারণে রোগীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।
গত শনিবার র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে মিটফোর্ড ও বাবুবাজার ৯টি ওষুধের মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের নকল, ভেজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ, চোরাই ও নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করা হয়। ৭৭টি মামলায় ১০৩ জনকে আটক এবং ১ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ২০ জন ব্যবসায়ীকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এটা ছিল ভেজাল, নকল, চোরাই, নিষিদ্ধ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের দুর্গে স্মরণকালের বৃহত্ সফল অভিযান।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরা ৮ দফা দাবিতে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির আহ্বানে গতকাল দেশব্যাপী ধর্মঘট পালনের কর্মসূচীর ঘোষণা দেয়। ধর্মঘট চলাকালে গতকাল সকাল ১০টায় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে সমিতির নেতৃবৃন্দের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আড়াই ঘণ্টা বৈঠক চলাকালে দাবিসমূহ মেনে নেয়ার আশ্বাস দেন মহাপরিচালক। এর প্রেক্ষিতে সমিতির নেতৃবৃন্দ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৪ ঘণ্টা ধর্মঘট স্থগিত করেন। ১০ দিনের মধ্যে এ দাবি মেনে না নিলে পুনরায় আন্দোলনের কর্মসূচীর ঘোষণা দেবেন বলে সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান।
বৈঠকে ওষুধ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ছাড়াও বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি বাবু শুকুমার রঞ্জন ঘোষ এমপি, সমিতির সভাপতি মো. সাদেকুর রহমান, সহ-সভাপতি কাজী জালাল উদ্দিন ও আব্দুল হাইসহ প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, একই দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে ওষুধের দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছে ওষুধ ব্যবসায়ীরা। পাইকারি ও খুচরা সকল ধরনের ওষুধের দোকান বন্ধ ছিল। এতে রোগীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ওষুধের দোকান সিলগালা, গ্রেফতার ও জরিমানা করায় দেশব্যাপী ধর্মঘট আহবান করেছে ওষুধ ব্যবসায়ীরা।
নগরীতে ওষুধের পাইকারি বাজার হাজারী গলি, লালদীঘির পাড়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের সামনেসহ নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ওষুধের দোকানগুলো বন্ধ ছিল। এতে হাসপাতালের চিকিত্সাধীন রোগীদের ওষুধ নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি চট্টগ্রাম জেলার আহবায়ক সমীর কান্তি চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, বুধবারের মধ্যে ৮ দফা দাবি পূরণ না করায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ধর্মঘট পালন করা হয়।
রাজশাহী অফিস জানায়, রাজশাহীতে ওষুধ দোকান মালিক সমিতি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ধর্মঘট পালন করেছে। ধর্মঘট চলাকালে প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের চিকিত্সা কার্যক্রমে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
রাজশাহী কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি ফয়সাল কবির চৌধুরী দাবি করেন, কেন্দ ীয় কমিটির সিদ্ধান্তে রাজশাহীতেও ওষুধের দোকান বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করা হয়। মুমূর্ষু রোগীদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সমিতির অফিসে সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ওষুধ বিক্রির ব্যবস্থা ছিল।
তবে সমিতির অফিস থেকে ওষুধ পাওয়ার তথ্যটি সাধারণ মানুষের জানা ছিল না বলে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
