কার্বন কমাও সবুজ পৃথিবী গড় এ প্রত্যয়ের ঘোষণা দিয়ে নোয়াখালীতে তিন দিনব্যাপী শেষ হলো দক্ষিণ এশীয় যুব ক্যাম্প । গত ২৭ সেপ্টেন্বর থেকে নোয়াখালী বিআরডিবি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দক্ষিণ এশীয় জলবায়ু কৃষি ও পানি বিষয়ক অনুষ্ঠিত এ যুব ক্যাম্পে বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কাসহ ৮০ জন যুব প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
অক্সফ্যাম ফুড জাস্টিজ ক্যাম্পেইন- গ্রো’র সহযোগিতায় প্রচারাভিযান-সিএসআরএল, পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড এ্যাকশন নেটওয়ার্ক-প্রাণ, হিউম্যানিটিওয়াচ এবং অনলাইন নলেজ সোসাইটি এ যুব ক্যাম্পের আয়োজন করে । জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় কিশোর-তরুণদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে নোয়াখালী জিলা স্কুলে ৫০টি গাছের চারা রোপণের মধ্যদিয়ে ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পলিসি এডভোকেসি প্রধান আন্নারোজ।
উদ্বোধনী পর্বে অক্সফ্যামে এশিয়া পলিসি সমন্বয়কারী জিয়াউল হক মুক্তা, জীবনযাত্রার স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান-সিএসআরএল’র পক্ষ থেকে তাপস চক্রবর্তী, হিউম্যানিটি ওয়াচের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদি, অনলাইন নলেজ সোসাইটির প্রদীপ কুমার রায় ও ক্যাম্পের সমন্বয়কারী প্রাণের প্রধান নির্বাহী নূরুল আলম মাসুদ বক্তব্য রাখেন । এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. আহসান উদ্দিন আহম্মেদ।
ক্যাম্পের দ্বিতীয় দিনে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে তরুণদের একটি ব্যতিক্রমী প্রতীকী অবস্থান ও শেষদিন দক্ষিণ-এশীয় তরুণদের ‘কার্বন কমাও সবুজ পৃথিবী গড়, বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে জলবায়ু মোকাবেলায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র-প্রান্তিক উত্পাদকদের সুরক্ষায় নীতিগ্রহণ-সহ কয়েকটি দাবি সম্মিলিত একটি ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে ক্যাম্পের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক পদ্মশ্রী পদকপ্রাপ্ত ও গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব ঝর্ণাধারা চৌধুরী। তিনি বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় আজকের এ তরুণদের অঙ্গীকার আগামীদিনে সমৃদ্ধশালী দক্ষিণ এশিয়া গঠনে ভূমিকা রাখবে। আজকের তরুণরাই কাল রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে নিবেদিত হবে। আজকের শিক্ষা সেদিন দক্ষিণ এশিয়ার দরিদ্র উত্পাদকদের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি মহাত্মা গান্ধীর সাতটি পাপ সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সবাইকে জানান, আদর্শহীন শিক্ষা সমাজের ক্ষতি করে। এ ক্যাম্প আমাদের মনে আদর্শের বীজ বপন করার ক্ষেত্র হয়ে থাকলো।
ক্যাম্পের বিভিন্ন সেশনে বিভক্ত হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্র ও আঞ্চলিক পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণে নীতি-নির্ধারকদের প্রভাবিত করার নানান দিক এবং স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজের অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। বিভিন্ন পর্বে আলোচনায় অংশ নেন অক্সফ্যামের জিয়াউল হক মুক্তা। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের উপস্থাপনায় তুলে ধরেন জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ ক্ষতিকারক দিকগুলো। সবুজ পৃথিবী গড়তে কার্বণ নি:সরণ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। ২০১৫ সাল পরবর্তী বৈশ্বিক ও জাতীয় উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে ‘জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকারি প্যানেল’ (আইপিসিসি)-র প্রতিবেদনের বৈজ্ঞানিক তথ্য গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার এসব তরুণ প্রতিনিধিরা।
