চট্টগ্রামে প্রতিমায় চলছে শেষ মুহূর্তের তুলির ছোঁয়া

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩০
শরতের আকাশে মেঘ আর রোদের লুকোচুরি খেলা। পিতৃপক্ষ শেষ। শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। বছর ঘুরে মা দুর্গা আবার আসছেন মর্ত্যে। চট্টগ্রামের বাতাসে তাই পূজার আমেজ। শান্তির দেবী, শক্তির দেবী, অন্নদায়িনী দুর্গাকে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে ঘরে ঘরে। শিল্পীর তুলিতে দুর্গা প্রতিমায় চলছে শেষ মুহূর্তের আঁকিবুঁকি। নগরীর মার্কেটগুলোতে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের জন্য পছন্দের জামা, জুতোসহ নানা উপহার সামগ্রী কিনতে দোকানে দোকানে নানা বয়সী নারী-পুরুষের ভিড় লেগেই আছে। দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি প্রকৃতিও বৈরী আচরণ করছে। প্রায় প্রতিদিনই চট্টগ্রামে হচ্ছে ঝড়-বৃষ্টি। তবে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও থেমে নেই উত্সব আয়োজনের প্রস্তুতি। চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবছর পূজা মণ্ডপের সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ৪টি বেড়েছে। এবছর ২শ’ ৬৩টি মণ্ডপে পূজা হবে। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডা. তিমির বরণ চৌধুরী ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদ ও দুর্গা পূজা কাছাকাছি সময়ে হওয়ায় এবারের পূজায় রাস্তায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। সমপ্রতি পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকে এ সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাত ১২টার আগে শহরে ট্রাকসহ কোনো ভারি যানবাহন প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব, পুলিশকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। চলছে প্রতিমা ডেলিভারির কাজও। গতকাল শুক্রবার নগরীর সদরঘাট কালীবাড়ি এলাকায় কয়েকজন প্রতিমা শিল্পীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বরাবরের মত এবারও ভালোই কাজের অর্ডার পেয়েছেন তারা। তবে আশানুরূপ লাভ হচ্ছে না। সদরঘাট এলাকার দুলাল প্রতিমালয়ের শিল্পী সুশান্ত পাল বলেন, এবছর তারা ৪০টি প্রতিমা গড়েছেন। এসব প্রতিমার দাম ১০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার মধ্যে। এখন প্রতিমার গায়ে রং তুলির কাজ চলছে। কিন্তু বৃষ্টির জন্য কাজ করা যাচ্ছে না।