হূদয় আকুল করা সুরের দোলায় ভেসে সবাই বরণ করলো শরেক। ছায়ানট গতকাল শুক্রবার চারুকলার বকুলতলায় আয়োজন করেছিল সুরে সুরে শরত্ অঞ্জলি অর্পণ অনুষ্ঠানের। ছায়ানটের শিল্পীরা শরতের গান গেয়ে ঘোষণা করেন শরত্-বন্দনা। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় গতকাল শুক্রবার সকালে এ উত্সবের আয়োজন করে ছায়ানট।
শরত্কাল চললেও প্রকৃতিতে যেন বর্ষার রূপ। গতকাল ভোর থেকেই টিপটিপ বৃষ্টি। অনুষ্ঠানের মাঝেও বৃষ্টি এসে হানা দিল। কিন্তু শিল্পীরা তাতে দমে যাননি। খানিক বিরতির পর আবারো শুরু হয়েছে অনুষ্ঠান। চারুকলার বকুলতলায় গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুল সাজিয়ে শরতের আমেজ আনা হয়েছিল। উত্সবে যোগ দেয়া দর্শক-শ্রোতাদের গান শোনার পাশাপাশি তা বাড়তি আনন্দই দিয়েছে। আলোচনা ছিল না কোন, ছিল শুধু গান। রবীন্দ্রনাথের মোট ১৯টি গান এতে পরিবেশন করেন শিল্পীরা। ঘড়ির কাঁটা সাতটার ঘর ছুঁতেই সম্মেলক কণ্ঠে নৃত্যের সঙ্গে শিল্পীরা গেয়ে উঠলেন ‘দেখো দেখো, দেখো, শুকতারা’। সম্মেলক কণ্ঠে শিল্পীরা আরো গেয়ে শোনান ‘আলোর অমল কমলখানি’, ‘ওগো শেফালি বনের মনের কামনা’ ও ‘তোমার মোহন রূপে কে রয় ভুলে’। একক কণ্ঠে শিল্পী সুকান্ত চক্রবর্তী গেয়ে শোনান ‘শুভ্র আসনে বিরাজ’, ফারজানা আক্তার পপি গেয়ে শোনান ‘তোমার সুর শোনায়ে’, মোস্তাফিজুর রহমান তূর্য ‘সকাল বেলার আলোয় বাজে’, সেমন্তী মঞ্জরী ‘কার বাঁশি নিশিভোরে’, সুশান্ত রায় ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’, মাকছুরা আখতার ‘হে ক্ষণিকের অতিথি’, বিক্রম দাস ‘আমি চঞ্চল হে’, আশিকুর রহমান ‘শিউলি ফুল, শিউলি ফুল’, দীপ্তি দাস ‘তোমরা যা বলো তাই বলো’, দীপাঞ্জন মুখার্জী ‘হূদয়ে ছিলে জেগে’, সুতপা সাহা ‘যে ছায়ারে ধরব বলে’, পার্থপ্রতীম রায় ‘আমারে ডাক দিল কে’, নাঈমা ইসলাম নাজ ‘ছুটির বাঁশি বাজল’ গেয়ে শোনান। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় অনুষ্ঠান।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে আবৃত্তি
সমন্বয় পরিষদ
গতকাল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে হয়ে গেল দেশের প্রতিশ্রুতিশীল আবৃত্তি শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি অনুষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সহযোগিতায় আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসাবে গতকাল ‘জ্বালাও আলো আপন আলো’ শীর্ষক আবৃত্তি অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেন ঢাকা অঞ্চলের ৪টি আবৃত্তি সংগঠনের ৮ জন আবৃত্তি শিল্পী। আবৃত্তি শিল্পীরা হলেন মুক্তধারা সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের শাফি ইসলাম ঊষা, জোবদাতুল ইসলাম জাবেদ; বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি একাডেমীর-জাফর সাদিক, জান্নাতুল নাঈম রিমি; স্বরব্যঞ্জন বাচনিক উত্কর্ষ ও চর্চা কেন্দ্রের কাজী আতাউল্লাহ বোখারী, নাহিদ ফারজানা; ময়মনসিংহের শব্দ আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের সেলিনা কবির চৌধুরী ও রানা আহমেদ। অনুষ্ঠানে আবৃত্তি শিল্পীরা বিভিন্ন কবির নির্বাচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবৃত্তি শিল্পী কাজী মদিনা ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী। সভাপতিত্ব করেন আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবৃত্তি শিল্পী আবদুস সেলিম চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সহযোগিতায় নিয়মিত এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে থাকে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ।
‘আনন্দ ওই এলো দ্বারে’
শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে সঙ্গীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের ২৯তম সঙ্গীত আসরের আয়োজন করা হয়। দর্শনীর বিনিময়ে সঙ্গীতানুষ্ঠানে এবার সঙ্গীত পরিবেশন করে গানের সংগঠন প্রতীতি। একক, সম্মেলক গান ও পাঠ দিয়ে সাজানো হয় অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সম্মেলক গানের মধ্য দিয়ে। গাওয়া হয় রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘ তোমার আনন্দ ওই এলো দ্বারে’। অনুষ্ঠানে গাওয়া হয় ‘মম অঙ্গনে স্বামী’, ‘ও পূজোর গন্ধ এসেছে’, ‘মম চিত্তে নিতি নৃত্যে’, ‘কী গাব আমি’, ‘কেন মন বনে মালতী’, ‘বিপুল তরঙ্গ রে’ ইত্যাদি। শিল্পীরা ছিলেন মনসুরা বেগম, বীথি ফারজানা, শর্মিলা চক্রবর্তী, টিংকু সিং, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, এরফান হোসেন, শ্রেয়া, অপর্ণা প্রমুখ। এর আগে বক্তব্য রাখেন বিশ্বজিত্ রায় ও মনসুরা বেগম।
