পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিশ্বজিত্ হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৩৩
পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিশ্বজিত্ হত্যা মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রিপন সরদার। হুমকি দিয়ে শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার ঘাঘড়িজোড়া গ্রাম থেকে তাকে বের করে দেয়া হলে আশ্রয় নেন শ্বশুরবাড়ি পালং থানার কোটাপাড়া গ্রামে। সেখানেও ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় যুবক তাকে বিশ্বজিত্ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেয়ায় মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তিনি গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় আসলেও সদরঘাটে পুলিশ তাকে মারধর করে। পুলিশ তার কাছ থেকে ৪শ’ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এখন রিপন সরদার বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। হত্যা মামলার পিপি (পাবলিক প্রসিকিউশন) এসএম রফিকুল ইসলাম সাক্ষী রিপন সরদারকে নিরাপত্তার ব্যাপারে আশ্বস্ত করলেও তিনি জানান, মাঝে মধ্যেই মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ কারণে রিকশাচালক রিপন আর রিকশা চালাতে পারছেন না। তার পরিবারও অর্থকষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার রিপন সরদার ইত্তেফাককে জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে এই হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার পর থেকে তাকে প্রায়ই হুমকি দেয়া হচ্ছে। সাক্ষ্য দেয়ার আগে অনেকেই তাকে মোটা অংকের টাকা দিতে চেয়েছিলেন যাতে এ মামলায় তিনি সাক্ষ্য না দেন। কিন্তু তিনি এ টাকা না নিয়ে আদালতে সত্য কথা বলার জন্য অবিচল থাকেন। আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার পর তিনি গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে তার বাড়িতে প্রতিদিন ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় যুবক এসে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় তার বাবা মোবারক সরদার অসুস্থ হয়ে পড়েন। মা রাহেলা বেগম পার্শ্ববর্তী এক ধনাঢ্য ব্যক্তির বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালান। কিন্তু ২ ভাই, ২ বোন ও স্ত্রী-সন্তানের খরচ তার মায়ের রোজগারে চালানো সম্ভব নয়। এ কারণে তিনি রিকশা চালানোর জন্য আবারও ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ভোরে সদরঘাটে লঞ্চ থেকে নামার পর শাঁখারীবাজারে ৩ পুলিশ তাকে আটক করেন। এক পুলিশ সদস্য তার পকেট থেকে ৪শ’ টাকা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন রিপন। এ ঘটনার ২/৩ দিন পর তিনি শরীয়তপুরের পালং থানার কোটাপাড়ায় তার শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। কিন্তু কোটাপাড়া স্থানীয় ছাত্রলীগ নামধারী ৪/৫ জন তাকে বিশ্বজিতের মতো কুপিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরপর রিপন বিষয়টি নিয়ে পালং থানা পুলিশের কাছে যান। থানায় ওসির কাছে বিশ্বজিত্ হত্যা মামলার সাক্ষী পরিচয় দেন। রিপন অভিযোগ করেন, তিনি নিরাপত্তার জন্য জিডি করতে চাইলে থানা থেকে একজন কনস্টেবল দিয়ে বের করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে পালং থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রিপন সরদার একজন নেশাখোর। তবে তাকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। রিপন বলেন, তিনি কোন নেশা করেন না। রিকশা চালানোর সময় মাঝে মধ্যে গুল সেবন করেন। পালং থানা পুলিশের কাছে কোন নিরাপত্তা না পেয়ে ৩ দিন আগে তিনি ঢাকায় চলে আসেন।